প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা মেটাবার জন্য কোনো সময় ব্যয় করব না। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আমি ঘোষণা করছি, যারা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা রকম অন্যায়-অবিচার করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন এবং এখনো করে চলেছেন, আমি তাদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করছি। আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।”
আগামীতে সরকারে গেলেও ‘তাদের’ বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেবেন না বলে কথা দেন খালেদা জিয়া।
জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার যে প্রস্তাব দিয়েছেন- তার প্রতিক্রিয়া জানাতেই রাজধানীর একটি হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিগত বিএনপি সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে তার ভাষণেও আমার, আমার সরকার, দল, পরিবার ও রাজনৈতিক কার্যালয় সম্পর্কে অনেক কুৎসা রটিয়েছেন। আমি এর পাল্টা বক্তব্য দিতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্যবর্গ ও আত্মীয়-স্বজন সম্পর্কে বিস্তর অভিযোগ ও তথ্য থাকা সত্ত্বেও আমি এ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।
“আমি মনে করি, অনেক হয়েছে। বাংলাদেশের সুরুচিবান মানুষ আর এসব শুনতে চান না।”
বিএনপির সময়েই জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান দলের চেয়ারপার্সন।
তিনি বলেন, ‘‘দেশবাসী জানেন, এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিস্তার আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের আমলেই ঘটেছিল। যশোরে উদীচীর গানের আসরে, রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে, পল্টনে সিপিবির জনসভাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে এবং খুলনায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপসনালয়ে, বানিয়ারচরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গীর্জায় জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলায় বহু নিরাপরাধ মানুষ জীবন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজের জেলা গোপালগঞ্জে বিপুল আকৃতির শক্তিশালী বোমা পাওয়ার ঘটনা তার আমলেই ঘটেছিল।”
এসব ঘটনার ‘সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার’ না করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ‘বিষোদগার’ ও দায়িত্বশীল নেতাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ‘হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বিএনপি আমলেই এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গঠনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “এই বাহিনী ব্যাপক সাফল্য ও সুনাম অর্জন করে। র্যাবকে আমরা কখনো বিরোধীদলের কর্মসূচি দমনের কাজে অথবা অন্য কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করিনি।’’
নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান, পিলখানা ট্র্যাজেডি, মতিঝিলে হেফাজতবিরোধী পুলিশি অভিযান, ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধান, শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তা আদিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার এবং শেয়ারবাজার, হল-মার্ক, ডেসটিনি কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলো নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আসা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
চার দলীয় সরকারের আমলে ‘ভুল হয়েছে’ স্বীকার করে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা বলেন, ‘‘ মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। এ কথা স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, অতীতে আমাদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই, আমরা ওইসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ’’
আগামীতে একটি উজ্জ্বল, অধিক স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
“আমি সেই প্রবচনের সঙ্গে একমত যে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই আমরা অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করব না।”
আগামীতে সরকারে গেলে জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমাদের সরকারের আমলে আমরাই এর সূচনা করেছি। আগামীতে এ লড়াই কেবল অব্যাহতই থাকবে না, সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অন্যান্য দেশ ও সংস্থার সঙ্গে মিলে এই সহযোগিতা আরো বাড়াবার উদ্যোগ আমরা নেব।”
খালেদা বলেন, বাংলাদেশের মাটিকে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অথবা অন্য কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতায় কখনো ব্যবহার করতে না দেয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে তিনি অঙ্গীকারাবদ্ধ।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার জানিয়ে খালেদা বলেন,‘‘ এই অঞ্চলের দেশগুলোর কোনোটিই নিজেদেরকে সরিয়ে নিতে কিংবা বিচ্ছিন্ন রাখতে পারবে না। আমরা জনগণের সমর্থনে আগামীতে সরকারে গেলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মিলে একযোগে কাজ করব। বিদ্যমান সম্পর্ক বহাল রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক খাতে সহযোগিতা বাড়াবার নতুন পথের সন্ধান আমরা করব।”
তিনি আশ্বাস দেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বৌদ্ধ বিহারসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করবেন, অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনবেন।
“বিএনপি আবরো ক্ষমতায় গেলে আমরা কোনো দলের সরকার হবার বদলে জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি হব।... প্রতিশোধ নেয়ার ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কোনো ইচ্ছা ও সময় আমার নেই।”
জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার যে প্রস্তাব দিয়েছেন- তার প্রতিক্রিয়া জানাতেই রাজধানীর একটি হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিগত বিএনপি সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে তার ভাষণেও আমার, আমার সরকার, দল, পরিবার ও রাজনৈতিক কার্যালয় সম্পর্কে অনেক কুৎসা রটিয়েছেন। আমি এর পাল্টা বক্তব্য দিতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্যবর্গ ও আত্মীয়-স্বজন সম্পর্কে বিস্তর অভিযোগ ও তথ্য থাকা সত্ত্বেও আমি এ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।
“আমি মনে করি, অনেক হয়েছে। বাংলাদেশের সুরুচিবান মানুষ আর এসব শুনতে চান না।”
বিএনপির সময়েই জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান দলের চেয়ারপার্সন।
তিনি বলেন, ‘‘দেশবাসী জানেন, এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিস্তার আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের আমলেই ঘটেছিল। যশোরে উদীচীর গানের আসরে, রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে, পল্টনে সিপিবির জনসভাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে এবং খুলনায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপসনালয়ে, বানিয়ারচরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের গীর্জায় জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলায় বহু নিরাপরাধ মানুষ জীবন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজের জেলা গোপালগঞ্জে বিপুল আকৃতির শক্তিশালী বোমা পাওয়ার ঘটনা তার আমলেই ঘটেছিল।”
এসব ঘটনার ‘সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার’ না করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ‘বিষোদগার’ ও দায়িত্বশীল নেতাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ‘হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বিএনপি আমলেই এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গঠনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “এই বাহিনী ব্যাপক সাফল্য ও সুনাম অর্জন করে। র্যাবকে আমরা কখনো বিরোধীদলের কর্মসূচি দমনের কাজে অথবা অন্য কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করিনি।’’
নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান, পিলখানা ট্র্যাজেডি, মতিঝিলে হেফাজতবিরোধী পুলিশি অভিযান, ইলিয়াস আলীর অন্তর্ধান, শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তা আদিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার এবং শেয়ারবাজার, হল-মার্ক, ডেসটিনি কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলো নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আসা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
চার দলীয় সরকারের আমলে ‘ভুল হয়েছে’ স্বীকার করে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা বলেন, ‘‘ মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। এ কথা স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, অতীতে আমাদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই, আমরা ওইসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ’’
আগামীতে একটি উজ্জ্বল, অধিক স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
“আমি সেই প্রবচনের সঙ্গে একমত যে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই আমরা অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করব না।”
আগামীতে সরকারে গেলে জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমাদের সরকারের আমলে আমরাই এর সূচনা করেছি। আগামীতে এ লড়াই কেবল অব্যাহতই থাকবে না, সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অন্যান্য দেশ ও সংস্থার সঙ্গে মিলে এই সহযোগিতা আরো বাড়াবার উদ্যোগ আমরা নেব।”
খালেদা বলেন, বাংলাদেশের মাটিকে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অথবা অন্য কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতায় কখনো ব্যবহার করতে না দেয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে তিনি অঙ্গীকারাবদ্ধ।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার জানিয়ে খালেদা বলেন,‘‘ এই অঞ্চলের দেশগুলোর কোনোটিই নিজেদেরকে সরিয়ে নিতে কিংবা বিচ্ছিন্ন রাখতে পারবে না। আমরা জনগণের সমর্থনে আগামীতে সরকারে গেলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মিলে একযোগে কাজ করব। বিদ্যমান সম্পর্ক বহাল রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক খাতে সহযোগিতা বাড়াবার নতুন পথের সন্ধান আমরা করব।”
তিনি আশ্বাস দেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বৌদ্ধ বিহারসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করবেন, অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনবেন।
“বিএনপি আবরো ক্ষমতায় গেলে আমরা কোনো দলের সরকার হবার বদলে জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি হব।... প্রতিশোধ নেয়ার ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কোনো ইচ্ছা ও সময় আমার নেই।”

No comments:
Post a Comment