Search This Blog

Sunday, October 27, 2013

হরতালের প্রথম দিনে সারাদেশে সংঘর্ষ ভাংচুর আগুন : র্যাব-পুলিশ বিজিবির গুলি ও হামলায় পাবনা ফরিদপুর পিরোজপুর যশোর বগুড়ায় নিহত ৫

১৮ দলের ডাকা টানা তিনদিনের হরতালের প্রথম দিনে সারাদেশে সংঘাত সংঘর্ষ সহিংসতা ও পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ শতাধিক। পাবনার ঈশ্বরদীতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত হয়েছেন। পিরোজপুরে হামলায় এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া যশোরের নোয়াপাড়ায় হরতালকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন এক যুবলীগ নেতা। বগুড়ার গাবতলীতে হরতালকারীদের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে।
সারাদেশে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। জয়পুরহাটে গাড়িতে আগুন ও ভাংচুর করেছে পিকেটাররা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। নাটোরে ২০ গাড়ি ভাংচুর করেছে হরতালকারীরা। কিশোরগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছে শতাধিক। বরগুনায় পিকেটার-পুলিশ সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। ফেনীতে সহিংসতায় চার পুলিশসহ আহত হয়েছে ৩০ জন। সিরাজগঞ্জে হরতালকারী ও হরতালবিরোধীদের সংঘর্ষে ৪৫ জন আহত হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সঙ্গে হরতালকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে ৩০ প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালিয়েছে হরতালকারীরা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সহিংসতায় আহত হয়েছে ৩০ জন। রাজশাহীর বাঘায় সংঘাত সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। পিরোজপুরের জিয়ানগরে ভাংচুর করেছে হরতালকারীরা। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ২ যুবলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৩০ জন। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ঈশ্বরদীতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় জামায়াত কর্মী নিহত
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হরতাল চলাকালে ১৮ দলের সমর্থনে পিকেটিংয়ের সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় এক জামায়াতকর্মী নিহতসহ ছাত্রশিবির ও যুবদলের ৩০ জন আহত হয়েছে। জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৮ দলের ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিনে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলাধীন মুলাডলির শেখপাড়া নামক স্থানে নাটোর-পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ওপর জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পিকেটিং করছিল। সকাল ১১টার সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একদল সন্ত্রাসী ১০-১২টি মোটরসাইকেল নিয়ে পিকেটারদের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এ সময় জুলহাস উদ্দিন মুন্নাফ (৩৫) নামের এক জামায়াতকর্মী নিহত ও ঈশ্বরদী দক্ষিণ শিবির সভাপতিসহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত জুলহাস উদ্দীন একই উপজেলার শরাইকান্দি গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে। তার লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ঈশ্বরদী শিবির সভাপতি ও অ্যাডওয়ার্ড কলেজের ইংরেজি অনার্সের ছাত্র ফরিদউদ্দিন এবং শিবিরকর্মী ইসলাম হোসেন ও সোহাগকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা যুবলীগ নেতা মিল্টনের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে। ১৮ দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় মিল্টন ও মিঠুর নেতৃত্বেই জামায়াত-শিবিরের ওপর গুলিবর্ষণ করে।
এদিকে সকাল ১১টায় পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের রুপপুর গোল চত্বর নামক স্থানে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা পিকেটিং করছিল। এ সময় মহাসড়কের পাশ থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ অতর্কিতভাবে তাদের ওপর গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে যুবদল কর্মী মাসুম গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে হরতাল সমর্থকরা একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ৯-১০টি বাড়ি ভাংচুর ও আগুন দেয়। পিকেটিংকারীদের বাধা দিলে শাহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি আতিউর রহমান ভোলা আহত হয়। এ ঘটনায় উত্তর ও দক্ষিণাচঞ্চলের সঙ্গে একমাত্র সংযোগকারী নাটোর-পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে মুলাডুলি রেলক্রসিং থেকে শুরু করে পাকশীর লালনশাহ সড়ক সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার একেবারে অবরুদ্ধ করে রেখেছে হরতাল সমর্থকরা। এ ঘটনার পর বিপুলসংখ্যক র্যাব, পুলিশ, ডিবি পুলিশ টহল দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলকে উপেক্ষা করে সড়কে অবস্থানসহ মিছিল-মিটিং করছে পিকেটাররা।

নগরকান্দায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা নিহত
১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের প্রথম দিনে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা সদরের বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন ছাগলদী মোড়ে পুলিশ-বিএনপির মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলিতে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মারুফ হোসেন (২০) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এছাড়া সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, হরতাল সমর্থকসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৬ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ছয়টায় নগরকান্দা উপজেলার কলেজ রোড, নগরকান্দা সদরে পাম্পের সামনে, ছাগলদী মোড় ও জুগুরদী বাসস্ট্যান্ড থেকে বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান বুলু, সাইফুর রহমান, যুবদল সভাপতি সেলু, হেলাল ও মারুফের নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ অভিমুখে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ হরতাল সমর্থকদের ওপর গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মারুফ হোসেন নিহত হয়। নিহত মারুফ নগরকান্দা পৌরসভার মিনারগ্রামের রাবু শেখের ছেলে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক দিনকালের সালথা প্রতিনিধি সাইফ হোসেন পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহত হয়। আহত সাংবাদিক সাইফকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত বিএনপি কর্মী ফাতেমা আক্তার, বদুল, ফেরদাউস, আহাদ, শামিম, ফরহাদ, কামালকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে হরতাল সমর্থকদের হামলায় নগরকান্দা থানার এসআই খলিল, এসআই কালাম, এসআই কুদ্দুস, এএসআই জহুরুল, নায়েক আজিজুল, কনস্টেবল এরফান, নুরুজ্জামান, শাহাবুদ্দীন, কালাম, মইনুল, সঞ্জিত ও র্যাব সদস্য গোলজার আহত হয়েছে। দুপুর দেড়টায় ফরিদপুর থেকে র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে হরতাল সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া বাজার, তালমাবাজার, তালমার মোড়, বিশ্বরোড ও কোর্টপাড়ে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। রামনগরের ল্যাংড়ার মোড়ে হরতাল সমর্থকরা কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করেছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে।

পিরোজপুরে হামলায় যুবলীগ কর্মী নিহত
১৮ দলের ডাকা প্রথম দিনের হরতাল পিরোজপুরে সর্বাত্মক পালিত হয়েছে। পুলিশের গুলি ও আওয়ামী লীগ বিএনপির সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ২৩ জন। গুরুতর আহত ২ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্তত ৩৫ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এদিকে জেলার জিয়ানগরের বালিপাড়ায় গতকাল ভোর রাতে এক বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলায় স্বপন শীল নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার চর বলেশ্বর গ্রামে ছাত্রলীগ ক্যাডার বাপ্পি মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।
পিরোজপুর শহরে বিএনপি পিকেটিংকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে বিএনপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপে শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১১ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি করে।
সকাল ৯টায় পিরোজপুর সদরের ভৈরমপুর এলাকায় হরতালকারীরা পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কে বেইলি ব্রিজের প্লেট খুলে, টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পিকেটারদের ধাওয়া করে। পিকেটাররা পিছু না হুটলে পুলিশ সেখানে ৬ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ২ পিকেটার আহত হয়। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকলে ওই এলাকায় র্যাব ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তাতেও হরতালকারীরা না সরলে আরও ৭ রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। তাতেও হরতালকারীরা পিছু হটেনি বলে জানা গেছে। এদিকে জেলার নাজিরপুরে ১৮ দল পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল বের করলে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি ও ৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। এ ঘটনায় যুগান্তর প্রতিনিধি লাহেল মাহমুদ আহত হয়েছেন।
এছাড়া যশোরের নওয়াপাড়ার পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল হরতালকারীদের হামলায় নিহত হয়েছে। বগুড়ার গাবতলীতে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে একজন।

সাভারে ৪ গাড়িতে আগুন
সাভার-আশুলিয়ায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দেশব্যাপী ডাকা ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। গতকালের এ হরতালে ভোর থেকে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল, নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে হরতালের সমর্থনে মিছিল করে। মিছিলে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও অংশ নেয়।
হরতালে সাভার বাসস্ট্যান্ডে সকালে জাতীয়তাবাদী তৃণমূল দলের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। পরে পুলিশি বাধায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। টঙ্গীবাড়ি এলাকায় আজাদ সিএনজি সংলগ্ন আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে সকাল ৭টায় একটি লেগুনা ভাংচুর করে অগ্নি সংযোগ করে দুর্বৃত্তরা, এতে ঘটনাস্থলেই ভস্মীভূত হয় লেগুনাটি। সকাল সাড়ে ৭টায় একই সড়কের সরকার মার্কেট এলাকায় নারী ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে পিকেটার-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় হরতাল সমর্থনকারীদের প্রতি একটি সাদা মাইক্রো থেকে গুলি ছোড়ে। লক্ষ্যভ্রষ্ট এ গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি। এ সময় বিক্ষুব্ধরা দুটি বাস ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভাতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে বাসগুলো ভস্মীভূত হয়ে যায়।
সকাল ৮টায় নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কের কবিরপুর এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে বিএনপি ও জামায়াত। ওই এলাকায় একটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থনকারীরা। এছাড়া শনিবার রাতে ডেন্ডাবর এলাকায় একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সকাল সোয়া ৭টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে দফায় দফায় ঢাকা-আরিচা সড়কের জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে পিকেটারদের হাতে ৮-১০টি গাড়ি ভাংচুর হয়। সকাল ৯টায় আশুলিয়া থানা মহিলা দলের উদ্যোগে কাঠগড়া এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে এবং যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা মহিলা দল সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন, ইশরাত জাহান মিনি প্রমুখ।

গাজীপুরে সংঘর্ষ আটক ৪
হরতালের সমর্থনে গতকাল সকালে বিএনপি গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর চৌরাস্তা, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ ও কালিয়াকৈরে মিছিল সমাবেশ করেছে। হরতালকালে বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে ও আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। হরতালকালে মিলকারখানা, দোকানপাট ও অফিস-আদালত খোলা থাকলেও দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। তবে লেগুনা, টেম্পো ও রিকশা চলাচল করেছে। গাজীপুর সদরের চান্দনা- চৌরাস্তা এলাকায় সকাল ৮টার দিকে হরতালের সমর্থনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এমএ মান্নানের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতা আহমদ আলী রুশদী, প্রকৌশলী মমতাজ উদ্দিন, যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট এমদাদ খান, বিএনপি নেতা সুরুজ আহমেদ, মো. শহীদুল ইসলাম, আতাউর রহমান, মনিরুজ্জামান মনি ও শওকত বাবুসহ ১৮ দলের কর্মীরা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি ঢাকা-গাজীপুর সড়কের রহমান শপিংমলের সামনে এসে শেষ হয়। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এমএ মান্নানসহ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থিতদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
এদিকে সকালে শ্রীপুর উপজেলার বরমী এলাকায় হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল থেকে বরমী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়া হয়েছে। ওই এলাকা থেকে শ্রীপুর থানা পুলিশ মোতালেব ও শাহজাহান নামের দুই কর্মীকে আটক করেছে। একই উপজেলার জৈনা বাজারে আওয়ামী লীগ বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

জয়পুরহাট
১৮ দলের একটানা ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন সকাল থেকেই জয়পুরহাটে নজিরবিহীনভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে। সকাল ১০টায় পিকেটাররা দুটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয় ও ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এতে ওই দুটি ট্রেন যাত্রীসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সকাল ১০টায় রাজশাহী থেকে নীলফামারীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস এবং সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস জয়পুরহাট রেল স্টেশনে এসে পৌঁছলে হরতাল সমর্থক পিকেটাররা ওই দুটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তারা ট্রেনের ইঞ্জিনসহ দরজা-জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। এ সময় ওই দুটি ট্রেনের শতাধিক যাত্রী আহত হয়। পিকেটাররা ট্রেন দুটিকে অবরোধ করে রাখলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব পৌঁছার পরও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ ঘণ্টা পরে ট্রেন দুটি ছেড়ে যায়। এর দেড় ঘণ্টা পর জয়পুরহাট-পাঁচবিবি রেল স্টেশনের মাঝখানে পুরানাপৈল নামক স্থানে খুলনাগামী রকেট ট্রেনে আগুন দেয় পিকেটাররা। আইন-শৃংখলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আতংক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।
এছাড়া সকাল থেকেই হরতাল সমর্থক পিকেটাররা শহরের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১৫টি রিকশা, সিএনজি, অটো রিকশা ভাংচুর করেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১১টা থেকে শহরে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৮ দলের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিন পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে আশুশুনির বড়দল এলাকার গোয়ালডাঙ্গা বাজারে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের এসআই হাফিজ, দু’কনস্টেবলসহ ১০ পিকেটার আহত হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে এলাকায় কয়েকশ’ মহিলা পিকেটার সড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে মহিলারা ঝাঁটা, জুতা, বটি নিয়ে পুলিশের তাড়া করলে পুলিশ পিছু হটে।
সকাল ৬টায় একযোগে জেলার ২৫ স্পট হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থকরা। সকালে শহরের সব কয়টি প্রবেশ সড়ক তারা কাঠের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে হরতালের সমর্থনে স্লোগান দেয় জামায়াত-শিবির। পিকেটাররা সাতক্ষীরা যশোর সড়কের ছয়ঘরিয়া ও কদমতলা বাজার এলাকা অবরোধ করে পিকেটিং করে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের নিউমার্কেট এলাকায় হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করে ১৮ দল।
একই সময়ে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ সড়কের বাকাল মোড়, সাতক্ষীরা আশাশুনি সড়কের রামচন্দ্রপুর মোড় ও সাতক্ষীরা খুলনা সড়কের বিনেরপোতা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়তের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া জেলার তালা উপজেলার মির্জাপুর, মদনপুর, নওয়াপাড়া, শাঁকদহা, ত্রিশমাইল, জাতপুর, গোনালী, সুজনশাহা, মাগুরা-খলিষখালী-ইসলামকাটি মোড়, শ্যামনগর উপজেলার খানপুর মোড়, ভেটখালি বাসস্ট্যান্ড, মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও নওয়াবেঁকিতে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থকরা।
একই দাবিতে কালিগঞ্জের ভদ্রখালি, দেবহাটার সখিপুর, পারুলিয়া ও পানিরট্যাংক এলাকায় এবং আশাশুনির প্রতাপনগরে বিক্ষোভ করেছে জামায়াত শিবির। কলারোয়াতে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং হয়েছে সাতক্ষীরা যশোর মহাসড়কের আমানুল্লাহ কলেজসংলগ্ন সড়কে।

নাটোর
নাটোরে ট্রাকে আগুন, ১৫টি ট্রাক, একটি অ্যাম্বুলেন্স ও পত্রিকার গাড়িসহ ২০টি গাড়ি ভাংচুর ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং টায়ারে আগুন, গাছের গুঁড়ি ও ইট ফেলে রাস্তা অবরোধ ও পিকেটিং মিছিল সমাবেশের মধ্য চলছে ১৮ দলের ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল। হরতালের সময় সকাল ১১টার দিকে বাগাতিপাড়া ইউএনও অফিসে ককটেল হামলা করে পিকেটাররা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ১৮ দলের আগে থেকেই ডাকা রোববার দিনব্যাপী নাটোর জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সারা দেশে টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালের সমর্থনে ভোর থেকেই মাঠে নেমে আসে ১৮ দলের নেতাকর্মিরা। হরতালের শুরুতে সকাল ৬টারদিকে শহরের মাদ্রাসা মোড় , বাইপাস ও স্টেশনসহ ১০-১২টি স্থানে ককটেল ফাটিয়ে হরতালের উত্তাপ ছড়ায় পিকেটাররা। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নাটোর-পাবনা সড়কের আহম্মেদপুর এলাকায় একটি ট্রাক পুড়িয়ে দেয় পিকেটাররা। একই সময়ে শহরতলী দত্তপাড়া, বড় হরিশপুরের পুলিশ লাইনস, জেলা কারাগারের সামনে ও গুরুদাসপুরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের কাছিকাটায় অন্তত ১৫টি ট্রাকে ভাংচুর চালায় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় পিকেটারদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হয় চালকসহ তিনজন।

নারায়ণগঞ্জ
১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঘটনার সময় শহরের ২নং রেলগেট এলাকা থেকে দেওভোগ লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়া পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশ দেওভোগ এলাকার বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে কাইয়ুম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত কাইয়ুম নিজেকে একজন ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছেন।
এদিকে হরতালের শুরুতেই পিকেটিং করতে যাবার সময় নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে শহরের মণ্ডলপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর আগেও বেশ কয়েকবার কামাল গ্রেফতার হয়ে জেলে যান।
সকাল ৯টার দিকে শহরের দেওভোগ লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়া থেকে মত্স্যজীবী দলের নেতা কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দেয়। ওই সময় মিছিলকারীরা বেশ কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পুলিশের প্রতি ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে।
এদিকে পুলিশের ধাওয়ায় মিছিলকারীরা পিছু হটে গিয়ে কিছুক্ষণ পর নিজেদের পুনরায় সংঘটিত করে ফিরে আসে এবং পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করে। ওই সময় দ্বিতীয় দফায় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে পিকেটার এবং পুলিশ উভয়েই একে অপরের উপর ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে। ২ ঘণ্টা চলে সংঘর্ষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টা হরতালে প্রথম দিন গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে। ভোর থেকে ১৮ দলের নেতা কর্মীরা শহরে বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং ও খণ্ড খণ্ড মিছিল করছে বন্ধ রয়েছে। দোকানপাটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকলেও ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। দুপুরে হরতাল বিরোধী ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে মৌলভীপাড়াস্থ সাবেক ত্রান প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি হারুন আল রশিদের ব্যবসার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। শহরের পুনিয়াউটে পরপর ৫টি হাত বোমার বিষ্ফোরণ ঘটে। হরতালকারীরা বাইপাস সড়কে একটি কাভার্ড ভ্যান, অটো রিক্সা ভাংচুর করে। জেলার আখাউড়ায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ১০ জন আহত হয়। বিকেল ৪টার পর সীমিত আকারের রিকশা ও অটো রিকশা চলাচল শুরু করে। তবে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। হরতালকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুলিশ-বিএনপি-আওয়ামী লীগ ত্রিমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। হরতালের প্রথম দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বিএনপির নেতাকমীদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় দলের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রেণুর নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী পাকুন্দিয়া সদরে অবস্থান নেয়। বিএনপি নেতা ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি মিছিল উপজেলা পরিষদের দিকে আসার সময় উভয় দলের কর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সংষর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন পুলিশসহ উভয় দলের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।

বরগুনা
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খলিফারহাটে হরতাল সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের ছয়জনকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বিএনপির ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতালের সমর্থনে খলিফারহাটে এক প্রান্ত থেকে হরতাল সমর্থকরা মিছিল বের করে। অপর প্রান্ত থেকে হরতালবিরোধী আর একটি মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। মিছিল দুটি মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় দলের কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়।
আহতদের মধ্যে বাবুল মুন্সি, জাহাঙ্গীর, আল আমিন, ফোরকান, কবির মোল্লা ও কাইউমকে গুরুতর অবস্থায় পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।

নোয়াখালী
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল দেশব্যাপী ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল নোয়াখালীতে সর্বাত্মকভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী, দত্তেরহাট, সোনাপুর, মাইজদী বাজার, জেলার প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীসহ মহাসড়কের পাশের বাজারগুলোর দোকানপাট ছিল বন্ধ। স্কুল-কলেজ, ব্যাংক-বীমা, অফিস-আদালত খোলা থাকলেও উপস্থিত ছিল হাতেগোনা। সড়কে সীমিতসংখ্যক কয়েকটি রিকশা ছাড়া কোনো যান চলাচল করেনি। জনমনে চরম উত্কণ্ঠা-উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাটবাজারে উপস্থিতি থাকলেও মানুষের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্ক ও আর উত্কণ্ঠা।
এদিকে আজকের হরতালের সমর্থনে জেলা শহর মাইজদী, চৌমুহনী, দত্তেরহাট, সোনাপুর, সোনাইমুড়ী, কবিরহাট, সুবর্ণচরসহ সব উপজেলা এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে ১৮ দল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বিকালে জেলা শহর মাইজদীতে জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও জেলা যুবদল সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলোর নেতৃত্বে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে সদর উপজেলার মান্নাননগর, উত্তর ওয়াপদা বাজার, কাশেম বাজারে ১৮ দল এবং আ.লীগের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রংপুর
ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং অবরোধের মধ্য দিয়ে চলেছে উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে হরতাল। স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করছে মানুষ। হরতালের সমর্থনে সকালে নগরীর সাতমাথা এলাকায় মিছিল এবং অবরোধ করে শিবিরের নেতাকর্মীরা। নগরীর হাজিরহাট এলাকায় নাশকতার সময় পুলিশ দুই শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। এদিকে নাশকতার অভিযোগ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও দুই শিবির এবং এক যুবদল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে নগরীর বিনোদপুর রেলগেট অবরোধ করে শিবির কর্মীরা। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে পিকেটাররা।

মেহেরপুর
সহিংসতার মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে শুরু হয়েছে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল। গতকাল সকাল সোয়া ৬টার দিকে ১০-১২ জনের একদল মুখোশধারী পিকেটার মেহেরপুর শহরের তাহের ক্লিনিকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা রুটের শ্যামলী পরিবহনের একটি গাড়ি ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের রাজনগরে অবস্থান নিয়েছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলায় পিকেটাররা কোনো বিক্ষোভ বা অবরোধ কোনোটাই এখন পর্যন্ত করতে পারেনি।
এদিকে হরতালের কারণে মেহেরপুর থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের কোনো পরিবহন ছেড়ে যায়নি। ছেড়ে যায়নি কাঁচামালবাহী ট্রাকগুলোও।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরসহ বিশেষ বিশেষ এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মাগুরা
বিএনপিসহ ১৮ দলের ডাকা ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন মাগুরায় আলোকদিয়া বাজারে একটি ট্রাক ভাংচুর এবং শ্রীপুর উপজেলার আমতল বাজার থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রকিবুল ইসলামকে পুলিশ আটক করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিকালে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জেলার সর্বত্র হরতাল পালিত হয়েছে।
সকাল থেকেই শহরে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ ছিল। মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহনসহ অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। অফিস-আদালত খোলা থাকলেও লোকের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি। শনিবার বিএনপি-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুরের কারণে হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো মিছিল বা পিকেটিং হয়নি।

ফেনী
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের হরতালে ফেনীতে পুলিশের সঙ্গে যুবদল কর্মীদের সংঘর্ষে ৪ পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে শহরের ট্রাঙ্ক রোডের প্রেস ক্লাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যুবদল কর্মীরা রাস্তায় পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে যুবদল কর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। সংঘর্ষে পিকেটারদের ইট ও পাথরের আঘাতে ৪ পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল জানে আলম, বশির, মহসিন ও আবুল কালাম।

সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশের এএসপিসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশতাধিক টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি নিক্ষেপ করেছে।
গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কামারখন্দ উপজেলার সীমান্তবাজার-ধুকুরিয়া আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। এ সময় দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাত রাউন্ড শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে ছাত্রদল কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর একই স্থানে গাছের গুঁড়িতে অগ্নিসংযোগ করে মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। এ সময় আরও পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এদিকে একই মহাসড়কের সলঙ্গা থানার নলকায় সড়ক অবরোধ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পুলিশ কনস্টেবল রুবেল, জামায়াত কর্মী আজাদুল (৩২), আবদুল মান্নানসহ (৩০) আহত হয় অন্তত ১৩ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড গ্যাসগান, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে।
অপরদিকে হরতালের সমর্থনে সকালে বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণপাড়া মোড় এলাকায় মিছিল বের করে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে ৭ জন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আবদুল আজিজ, মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, জয়নালকে আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর
দুপুর ১২টায় জেলার রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামে যুবলীগ-ছাত্রদলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় শাহিনুর আক্তার, আমেনা বেগম, তুহিন ও আরিফ হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ শাহিনুর আক্তার ও তুহিনকে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারে সকালে যুবলীগ-ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদল কর্মী বাবু, মোসলেহ উদ্দিন, কামরুল ইসলামসহ ৫ জন আহত হয়। এছাড়া দুপুরে রায়পুরের হায়দারগঞ্জ সড়কে তিনটি সিএনজি অটোরিকশা ও সদর উপজেলার হাজিরপাড়া বাজারে ভোর রাতে চারটি সিএনজি অটোরিকশা এবং একটি বাস ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুরের শেখপুরে সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এ সময় যুবলীগ নেতাকর্মীরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এছাড়া লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের মান্দারী বাজার ও লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের দক্ষিণ তেমুহনীসহ জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ ও মিছিল-পিকেটিংয়ের মধ্য দিয়ে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতাল চলছে। সকাল ৭টায় হরতালের সমর্থনে শহরের দক্ষিণ তেমুহনী, বিসিক শিল্পনগরী ও আলিয়া মাদরাসা এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল এবং পিকেটিং করেছে। এ সময় কমপক্ষে ২০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বরগুনা
একই দাবিতে বিএনপির ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল বরগুনায় সর্বাত্মকভাবে পালিত হচ্ছে। বরগুনার বামনায় হরতাল সমর্থকদের হমলায় দুজন অফিসারসহ মোট সাত পুলিশ আহত হয়েছে। এদিকে হরতালকে সামনে রেখে নাশকতার আশঙ্কায় জেলায় ২২ জন হরতাল সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল সকাল থেকে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিপুল পরিমাণ র্যাব-পুলিশ অবস্থান নেয়। দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপি সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক এসএম নজরুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য নজরুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) আবদুল খালেক, ভাইস চেয়ারম্যান মো. রেজবুল কবির, পৌর বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হালিম, জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক কেএম শফিকুজ্জামান মাহফুজসহ নেতাকর্মীরা অবস্থান করতে থাকেন।
সকাল থেকেই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে। বেলা ১১টার দিকে বিএনপির একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ শেষে পৌরসভা চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা বিএনপি সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লার সভাপতিত্বে সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক এসএম নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
বাকি অংশ

No comments:

Post a Comment