বগুড়া
হরতালে বগুড়া অচল হয়ে পড়েছে। হরতালকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটলেও বগুড়া শহর ছিল জামায়াত-শিবির ও বিএনপির দখলে। রাজপথে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের সাহসী উপস্থিতির কারণে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামার সাহস পায়নি। সারাদিন তালাবদ্ধ ছিল আওয়ামী লীগ অফিস। হরতালের শুরু থেকে শহরের প্রধান সড়ক ছাড়াও পাড়া-মহল্লায় নির্বিঘ্নে পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থকরা। যানবাহন চলা তো দূরের কথা, একটি বাইসাইকেলও চলতে দেয়নি পিকেটাররা। হরতাল চলাকালে শহরজুড়ে ব্যাপক পুলিশ থাকলেও তাদের ভূমিকায় ছিল শিথিলতা। এ কারণে হরতাল সমর্থকরা যে যেখানে সুযোগ পেয়েছে, সেখানেই পিকেটিং করেছে।
বগুড়ার কাহালু রেলস্টেশনে হরতাল সমর্থকরা পদ্মরাগ ট্রেনের হোসপাইপ খুলে নেয়ায় ট্রেনটি সেখানে আটকা পড়ে থাকায় সান্তাহার-বোনারপাড়া রুটে গতকাল সারাদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল করেছে হরতাল সমর্থকরা। আর ছাত্রশিবির পুলিশের সামনেই হরতালের পক্ষে বিশাল মিছিল করেছে। গতকাল হরতালের সমর্থনে বগুড়া শহরে ব্যাপক পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
সকাল থেকে শুধু সাধারণ মানুষদের পায়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেছে। দিনভর ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা পিকেটিং করেছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। শহরের সাতমাথায় ১৮ দলীয় ঐক্যজোট নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার আশঙ্কায় বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয় এবং আ.লীগের অফিস ও তার আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখে। আওয়ামী লীগ অফিস রক্ষায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।
হরতাল চলাকালে আদালত, শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা, নবাববাড়ী, ইয়াকুবিয়ার মোড়, ঠনঠনিয়া, স্টেশন রোড, সেউজগাড়ী, খান্দার, পুরান বগুড়া, আযিযুল হক কলেজের সামনে ও জেলা পরিষদের সামনেসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টায় ১৮ দলীয় ঐক্যজোট নেতাকর্মীরা দখল করে জিরো পয়েন্ট সাতমাথা। এর আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশত গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও শনিবার রাতে বগুড়া সদরের বাঘোপড়া ও শাজাহানপুরের ফকটি ব্রিজের কাছে ১৫-১৬টি কোচ, ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করা হয়। এ সময় ৫ জন আহত হয়। অপরদিকে রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
মুন্সীগঞ্জ
নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির ডাকা হরতালের প্রথম দিনে গতকাল মুন্সীগঞ্জে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে গজারিয়া এবং সিরাজদিখানের নিমতলায় পুলিশ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আলী আসগর রিপন মল্লিক, টঙ্গিবাড়ি যুবদল সভাপতি শামিম মোল্লা, কৃষক দল সভাপতি আ. সাত্তার, পুলিশের এসআই আতিকুর রহমান, কেয়াইন আ.লীগ নেতা আশ্রাফ আলী, যুবলীগ নেতা তৈয়ব আলীসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নিমতলায় মিছিল বের করে। এ সময় যুবলীগ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপি নেতা মোসলেম উদ্দিন, ইকবালকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে সকালে ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং মুন্সীগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোত টায়ার জ্বালিয়ে, রিকশা-অটোরিকশা ভাংচুর করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হরতাল সমর্থকরা।
পিরোজপুর
১৮ দলের ডাকা প্রথম দিনের হরতাল পিরোজপুরে সর্বাত্মক পালিত হয়েছে। পুলিশের গুলি ও আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ২৩ জন। জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্তত ৩৫ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এদিকে জেলার জিয়ানগরের বালিপাড়ায় গতকাল ভোর রাতে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলায় স্বপন শীল নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার চরবলেশ্বর গ্রামে ছাত্রলীগ ক্যাডার বাপ্পি মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।
পিরোজপুর শহরে বিএনপি পিকেটিংকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে বিএনপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপে শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে।
সকাল ৯টায় পিরোজপুর সদরের ভৈরমপুর এলাকায় হরতালকারীরা পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কে বেইলি ব্রিজের প্লেট খুলে, টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পিকেটারদের ধাওয়া করে। পিকেটাররা পিছু না হটলে পুলিশ সেখানে ৬ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ২ পিকেটার আহত হয়। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকলে ওই এলাকায় র্যাব ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তাতেও হরতালকারীরা না সরলে আরও ৭ রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। তাতেও হরতালকারীরা পিছু হটেনি বলে জানা গেছে। এদিকে জেলার নাজিরপুরে ১৮ দল পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল বের করলে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি ও ৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। এ ঘটনায় যুগান্তর প্রতিনিধি লাহেল মাহমুদ আহত হয়েছেন।
রংপুর
রংপুরে শিবিরের হামলায় জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি গাজীউর রহমানকে গাজী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শনিবার মধ্যরাতে নগরীর বিনোদপুর ২নং রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে গাজী জানান। তিনি বলেন, আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
তবে হামলার ঘটনা অস্বীকার করে শিবির মহানগর সভাপতি মোস্তাক আহমদ জানান, এ ঘটনা তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে হতে পারে।
গাজী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ব্যক্তিগত কাজ সেরে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। বিনোদপুর রেলগেট এলাকায় কয়েকজন শিবির ক্যাডার তার পথ আগলে ধরে তাকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে শিবির সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার পিঠ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নীলফামারী
১৮ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন নীলফামারীতে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশ যুবলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সংঘর্ষে পুলিশ এক চা দোকানদার ও তার দোকানের অপর ৩ গ্রাহককেসহ ৪ জনকে আটক করেছে। জেলার ডোমার উপজেলার ধরনীগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানায়, গতকাল হরতালের প্রথমদিন জেলার অন্যান্য এলাকার মতো ধরনীগঞ্জ বাজারে পিকেটিং করে হরতাল সমর্থনকারীরা। নিরীহ জনতার ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে ডোমার যুবলীগের নেতারা সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর একদল যুবলীগ কর্মী পুলিশের সঙ্গে সেই সংঘর্ষে অংশ নেয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসী একত্রে জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ জানাতে থাকে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় জেলা শহর হতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে উভয়পক্ষে নতুন করে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে যুবলীগের নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আসে। এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
চাঁদপুর
১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের প্রথমদিন সকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় দলের কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১৫-১৬ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। পরে দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ থেকে হরতাল চলাকালীন পুরো সময় ধরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল সকালে হরতালের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ হাজীগঞ্জ বাজারে শান্তিপূর্ণ হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। এ সময় হাজীগঞ্জ বাজারে হরতালের পক্ষে পিকেটিং করে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন। এতে পিকেটিং ও মিছিল একইস্থানে পৌঁছলে উভয় দলের অতি উত্সায়ী কর্মীরা ধর ধর বলে চিত্কার দিলে উভয়পক্ষ এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। এর পর থেকে উভয়দল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বাজারের মধ্যবর্তী অংশে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় হাজার হাজার ইট, পাথর নিক্ষেপ চলতে থাকে। এ সময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়।
মাদারীপুর
হরতালের প্রথমদিনে মাদারীপুরে বিভিন্ন সড়কের ১৪-১৫টি ইজিবাইক ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটকৃতরা হলেন- মাদারীপুর পৌর এলাকার যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন, কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, বালিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রায়হান হাওলাদার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি সুজন, জেলা জামায়াতের সদস্য দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, নাসির উদ্দিন কাজীসহ মোট ১৫ জন। সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ১৪-১৫টি ইজিবাইক ভাংচুর করে। পরে সদর থানা পুলিশ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কর্ণপাড়া থেকে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করার সময় কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, বালিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রায়হান হাওলাদার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি সুজন, জেলা জামায়াতের সদস্য দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, নাসির উদ্দিন ও মাদারীপুর পৌর এলাকার থানতলী থেকে যুবদল নেতা আলমগীর হোসেনসহ সন্দেহভাজন ১৫ জনকে আটক করে।
লালমনিরহাট
বিরোধী দলের ডাকা হরতালে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার শতাধিক পয়েন্টে হরতাল সমর্থকরা ভোর ৬টা থেকে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে রাখে। জেলা শহর ও উপজেলাগুলোতে পৃথকভাবে পিকেটিং চলতে দেখা গেছে। সকাল ১০টায় পিকেটাররা লালমনিরহাট জেলা আ.লীগ কার্যালয় ও জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে হামলা ব্যাপক ভাংচুর করে। দুপুর ১২টায় পিকেটাররা জেলা রেলওয়ে শ্রমিকলীগ অফিসে আগুন দিলে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময়ে হরতাল সমর্থকরা এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে বেশকিছু দোকানপাট ও ৪টি ব্যাংকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষতি সাধন করে। অপরদিকে ভোর ৬টায় লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর রেলওয়ে স্টেশনে হরতাল সমর্থকরা রেললাইন ও স্লিপার ওপর ফেলে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। সে কারণে সকাল থেকে লালমনিরহাটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরে স্থানীয় বিডিআর গেট সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১০ আহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। দুপুর ২টায় হরতাল সমর্থকরা জেলা শহরে লাঠি মিছিল করে। জেলা শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি সম্মলিতভাবে টহল অব্যাহত রেখেছে।
পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার নীলগঞ্জ ফেরিঘাটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দু’দলের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে উভয় দলের সমর্থক সংগঠনের কার্যালয়।
আহতরা হলেন- ছাত্রদলের জিয়ারুল ইসলাম, মারজান, জামাল গাজী, মিজান, মিরাজ, মানিক এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শামীম খলিফা, সহ-সভাপতি তোফাজ্জেল নাজির, শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার মল্লিক, ফারুক আকন, মামুন হাওলাদার, সুজন খলিফা, সোহেল খলিফা ও আল আমিন। এর মধ্যে গুরুতর আহত নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শামীম খলিফা ও সহ-সভাপতি তোফাজ্জেল নাজির, ছাত্রদলের কর্মী জিয়ারুল ইসলাম, মারজান, জামাল গাজীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়েছে। ১৮ দল আহূত হরতাল চলাকালে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিকেটিংয়ে বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। হরতাল সমর্থকরা নীলগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে হাজীপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ১৮ দল আহূত হরতালের সমর্থনে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের নীলগঞ্জ ফেরিঘাটে শান্তিপূর্ণভাবে পিকেটিং করছিলাম। এ সময় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শামীম খলিফার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এদের প্রতিহত করতে গেলে দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা তারেক জিয়া যুবসংঘের কার্যালয়, মাকসুদ মজুমদারের কেবল ব্যবসার প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাট
গতকাল বাগেরহাটে বাসে আগুন, ভাংচুর ও সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে প্রথম দিনের হরতাল। পিকেটাররা সকাল থেকে বাগেরহাটের দশানী, শ্রীঘাট, ফকিরহাটের খানজাহানপুর, নোয়াপাড়া, কাটাখালী, মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটী, বাধাল, রামপালের ফয়লাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে গাছ, বৈদ্যুতিক খাম্বা ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে।
এদিকে গতকাল ভোরে দিগরাজে রাস্তার পার্শ্বে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় পিকেটাররা। এছাড়া মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটী এলাকায় পিকেটাররা পিকআপসহ তিনটি গাড়ি ভাংচুর করে। সকালে ১৮ দলীয় জোটের নেতারা বাগেরহাট শহরের কালেক্টরেট এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তৃতা করেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বাবু, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল ওয়াদুদ, ছাত্রদলের সভাপতি সুজা উদ্দিন মোল্লা সুজন, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি শামীম আহসান প্রমুখ।
এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে পিকেটারদের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ তার দুই ছেলে আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল ভোরে এনায়েতপুর থানার রূপসী বাজারে থানা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুল খালেক ভুঁইয়ার দোকানের সামনের রাস্তায় বিএনপির পিকেটাররা গাছের গুঁড়ি ফেলে। তখন তার ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী রুবেল (১৮) ও রাসেল (১৫) গাছের গুঁড়ি সরিয়ে দিতে গেলে পিকেটাররা তাদের লাঠি দিয়ে মারধর করে।
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী)
হরতাল চলাকালে নোয়াখালীতে তাণ্ডব চালিয়েছে আ.লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল সন্ধ্যায় হরতালবিরোধী স্লোগান দিয়ে তারা জেলা শহর মাইজদীতে পত্রিকা অফিস, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় নোয়াখালী সদর থানার ওসি মোশারফ হোসেন তরফদারের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ শহরে অবস্থান করলেও তারা রহস্যজনক কারণে নীরব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হরতাল সমর্থক ও হরতাল বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, হরতাল চলাকালে সন্ধ্যায় হরতালবিরোধী স্লোগান দিয়ে আ.লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জেলা শহর মাইজদীতে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালায়। তারা দৈনিক সফল বার্তা পত্রিকা অফিস, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাকারিয়ার চেম্বার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নোমানের ভাই অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, বিএনপি নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিশাল সেন্টার, বাসাবাড়িসহ অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট করে।
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
বিএনপির ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালে মির্জাগঞ্জের কাঁঠালতলিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে ৯ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলা মাধবখালী ইউনিয়নের কাঁঠালতলিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাড়ির সামনে থেকে ইউনিয়ন বিএনপির মিছিল বের করে এবং বাকেরগঞ্জ সুবিদখালী বরগুনা মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে হরতাল পালন করে। এ সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ পাল্টা মিছিল বের করে হরতাল সমর্থনকারীদের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রথম দিনের হরতাল বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে সর্বাত্মকভাবে পালিত হয়েছে। হরতালের প্রথম প্রহরে থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান মণ্ডলের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি বিশাল মিছিল পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দিনব্যাপী হরতাল সমর্থনের মিছিলে মুখরিত ছিল পৌর শহরের রাজপথ। অপরদিকে উপজেলার মহিমাগঞ্জে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পিকেটিং করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এনটিভির জেলা প্রতিনিধিসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়।
পার্বতীপুর (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সর্বাত্মক হরতাল চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিকালে ছাত্রদল, যুবদল ও শিবির কর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে আমবাড়ী এবং মধ্যপাড়া নামক জনপদে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ওবায়দুল (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে বিকাল সোয়া ৪টায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় উভয় পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছে। হরতাল সমর্থকদের হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি রতন কুমার শীল (৪৫), যুবলীগ সভাপতি ধীপন ধর (২৮) ও যুবলীগ সেক্রেটারি রেজাউল করিম, ছাত্রলীগ সেক্রেটারি জিয়াসহ সাত-আটজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ২ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় হরতাল সমর্থকরা হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করেছে। পাল্টা হামলায় বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের ৫ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিএনপি অফিসও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর)
হরতালের প্রথম দিন আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় ১২ বিএনপি কর্মী আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা বিএনপি সমর্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সরিষাবাড়ী উপজেলার সর্বত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে। গতকাল হরতালে সরিষাবাড়ীর জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে বিভক্ত হয়ে রাস্তায় রাস্তায় পিকেটিং করে এবং দলীয় স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। স্বতঃস্ফূর্ত হরতালে বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৮টায় আওনা ইউনিয়নের কালিকাপুর মৌলভীবাজার এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭ বিএনপি কর্মী আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত টেঁটাবিদ্ধ মুকুল (৪৫) ও হাইত আলীকে (২৭) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপি সমর্থিত ৫টি দোকান ভাঙচুর করে। প্রতিবাদে এলাকাবাসী আওয়ামী লীগ সমর্থিত অ্যাডভোকেট মতিয়র তালুকদার স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর করে। অপরদিকে পৌর এলাকার বাউসি পপুলার চত্বরে সকাল ৮টায় বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে বলে বিএনপি নেতা রমজান আলী অভিযোগ করেন।
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও গোপালপুরে হরতাল সমর্থক ও হরতালবিরোধীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এবং সংঘর্ষের ঘটনায় গোপালপুর থানার ওসি ও কনস্টেবলসহ ১৪ জন আহত হয়।
সকাল ১১টায় হরতাল সমর্থক বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করতে থাকে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গোপালপুর থানার ওসি জসিম উদ্দিন ও কনস্টেবল হাফিজ হরতাল সমর্থকদের ইটের আঘাতে আহত হন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। আহত কনস্টেবলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওসি প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।
অপরদিকে, দুপুর ১২টায় নাগরপুরে বিএনপি ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ভাংচুর করে। এ ঘটনায় বিএনপি-ছাত্রলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়।
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
হরতালের প্রথম দিনে শ্যামনগরের কাশিমাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, মিছিল সমাবেশ ও পিকেটিং করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র মতে, গতকাল সকাল থেকে কাশিমাড়ী ইউনিয়ন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে শ্যামনগর কাশিমাড়ী সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মু. অলিউল্যাহর নেতৃত্বে একটি মিছিল কাশিমাড়ী বাজারে সড়ক অবরোধ করে, সহ-সভাপতি জামিরুল আলম বাবলুর নেতৃত্বে কাশিমাড়ী নতুনবাজার থেকে ইউনিয়ন জামায়াতের ৬নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি শহিদুল ইসলামের নেতৃতে ঘোলা ত্রিমোহনা মোড় হতে মিছিল পিকেটিং করতে করতে দলীয় কার্যালয়ে আসে।
বাঘা (রাজশাহী)
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম বাজারে আ.লীগ বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ২০ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাত রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় আবারও সংঘর্ষ বাধতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান।
স্থানীয়রা জানায়, হরতাল চলাকালীন সময়ে উপজেলার মনিগ্রাম বাজারে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১৮ দল (বিএনপি) সমর্থকরা পিকেটিং করছিল। ওই সময় ১৪ দল (আ.লীগ) সমর্থিতরা তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই সংঘর্ষে উভয়ের মধ্যে ২০ আহত হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথমদিনের হরতাল চলাকালে ককটেল, বিস্ফোরণ মোটরসাইকেল ভাংচুর হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ আহত হয়েছে ৬ জন।
গতকাল হরতালের শুরুতে সকালে চাচিয়া মিরগঞ্জ মাঝিপাড়া মোড়ে একটি মোটরসাইকেল ও নিজামখাঁ কালিরপাটে একটি ভটভটি পিকেটাররা ভাংচুর করে। ডোমেরহাটে হরতালকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও পুলিশের সঙ্গে হরতাল পালনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শামিউল, আনোয়ারুল, নাজমুল, রবিউলসহ ৬ জন আহত হয়।
জিয়ানগর (পিরোজপুর)
১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের প্রথমদিনে পিরোজপুরের জিয়ানগরে ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। বিএনপি জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার বালিপাড়ায় ব্যপক তাণ্ডব চালিয়ে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় হরতালের সমর্থনে উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় দফায় দফায় ৩টি ইজিবাইক ভাংচুর করে ছাত্রদল কর্মীরা। গতকাল ভোররাতে উত্তর পূর্ব বালিপাড়া ও ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের জামায়াত-বিএনপির সমর্থকরা যৌথভাবে মিছিল নিয়ে বালিপাড়া বাজারে প্রবেশ করে। একে একে বালিপাড়া ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড থেকেই হরতাল সমর্থকরা বাঁশের লাঠি, রড, রাম দা, চেইন স্টিক, হকস্টিক, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজারে জড়ো হয়। তারা রাতেই উপজেলার মধ্য ইন্দুরকানী গ্রামের আফজাল খানের বাড়ির সামনে সড়ক ও জনপথের চণ্ডিপুর-জিয়ানগর সড়কটি কেটে গভীর খাদের সৃষ্টি করে। এছাড়া এই সড়কটিসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ কেটে অবরোধ করে রাখে। দুপুরের দিকে পুলিশ কিছু স্থানের গাছ সরিয়ে রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করে। উপজেলার সর্বত্র সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও সকালেই ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া রাস্তায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
হরতালের প্রথম দিনে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। জানা গেছে হরতালের প্রথমদিন গতকাল দুপুরে কানসাট ব্রিজের কাছে পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর খোঁচপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে হাসান ও আবদুর রশিদের (ওবাইদুল্লাহ মুন্সী) ছেলে হারুনকে পিকেটাররা কুপিয়েছে। জানা গেছে আহত দুজনেই ছাত্রলীগের কর্মী। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল ভারত থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভূপতি মণ্ডল জানান, সোনামসজিদ পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ পণ্যভর্তি ট্রাক গ্রহণ করতে না চাওয়ায় তারা কোনো পণ্যবাহী ট্রাক সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাঠায়নি।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌর যুবদল, তারাব পৌর বিএনপি-যুবদল গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ-পুলিশের সংঘর্ষে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জন জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও আওয়ামী লীগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে বিএনপি ও যুবদলের ১৫ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়।
এছাড়া রূপগঞ্জে ৫ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় আটক হয়েছে ২ জন। রূপগঞ্জে পৌর যুবদল-আ’লীগের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে ১২ জন।
অপর দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার খাদুন এলাকায় ছাত্রলীগের দুই কর্মী আটকের গুজবে গতকাল রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়েছে। এ সময় ৬ থেকে ৭টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করা হয়। পরে উত্তেজিত এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা কবির মোল্লাকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ছাত্রলীগে নেতা মতিন সাউদ ও কবির মোল্লাকে খাদুনের যুবদল নেতা বকুল ও শরিফ মিয়া ধরে নিয়ে গেছে বলে গুজব ছড়ায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খাদুন এলাকার যুবদল নেতা বকুল মিয়া ও শরিফ মিয়ার বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। এ সময় ৬-৭টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে তারা। তখন এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীদের মধ্য থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা কবির মোল্লাকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রমের সীতাকুণ্ডে হরতালের প্রথম দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো যান চলাচল করেনি। পিকেটারদের সঙ্গে যুবলীগের সংঘর্ষে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এতে ৩ জামায়াত কর্মীসহ আহত হয়েছে ১০ জন। মহাসড়কের একটি কভার্ডভ্যান ও একটি চেয়ার কোচে আগুন দেয়াসহ পৃথক স্থানে ৬টি দোকান ভাংচুর করেছে পিকেটাররা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হরতালের প্রথম দিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি কভার্ডভ্যানে আগুন দেয় পিকেটাররা। সকাল ১০টার দিকে ওই এলাকায় ২টি দোকান ভাংচুর করে তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফৌজদারহাট জলিল গেট এলাকায় ২টি ও ফৌজদারহাট বাজারে ৪টি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মীর দোকান ভাংচুর করে পিকেটাররা।
দুপুরে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কেদারখিল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় যুবলীগ কর্মী মুসলিম উদ্দিন। এ ঘটনায় উভয় দলে ১০ জন আহত হয়েছে।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)
গফরগাঁওয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৩ দিনের লাগাতার হরতালে প্রথম দিনে গতকাল রোববার দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন- আওয়ামী লীগ এবং পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষের মধ্যে সর্বাত্মকভাবে আংশিক হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালের শুরুতে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও তৃণমূল দলের নেতাকর্মীরা উপজেলার সদরে বাসস্ট্যান্ড, মতি মার্কেট, তেজপাতা মার্কেট, টাওয়ারের মোড়, জালেশ্বর, দুগাছিয়া মোড়, মহিরখারুয়া, পালেরবাজার, রাজেন সরকারের মোড়, পাঁচবাগ মোড়, ধাইরগাঁও বাজার, মুখী বাজার, টাঙ্গাব, কান্দিপাড়া, নিগুয়ারী, দত্তেরবাজার, রসুলপুরসহ বিভিন্ন স্পটে গছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশ এলে তারা সরে যান এবং অনেক স্থানে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। হরতালকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আলী হোসেন ও নয়ন নামে দু’জনকে আটকে পর মারধর করে। পরে হরতালকারীদের প্রতিরোধের মুখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পাঁচবাগ-হোসেনপুর ব্রিজের মোড় চৌকা বাজার এলাকায় সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসহ তৃণমূল দলের শত শত নেতাকর্মী গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পাগলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হরতালকারীদের বাধা প্রদানসহ ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে হরতালকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল দল, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াকালে আওয়ামী লীগ কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় এবং উভয়ই দলের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গফরগাঁও ও পাগলা থানা থেকে আরও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কমপক্ষে ২৫-৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণসহ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে আরও ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হলে গোটা পাঁচবাগ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় বাজার এলাকায় সরকারদলীয় ব্যানার ও বিলবোর্ড কুপিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং দোকানপাটে ভাংচুর চালায়। সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিবর্ষণে, লাঠিচার্জে, ইট নিক্ষেপে ও দায়ের আঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আসলাম, নবী হোসেন, যুবদল নেতা মানিক মেম্বার, তৃণমূল দল নেতা রাসেল খান, মুক্তা, শ্রমিক দল নেতা জসিম, ছাত্রদল নেতা খোকন, হাসান, রিপেলসহ ৩০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দুপুরে পৌর শহরে জমির হোটেল ভাংচুর করা হয়। হরতালে গফরগাঁও থেকে দূরপাল্লার রুটের কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।
বাবুগঞ্জ (বরিশাল)
বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিনে বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গাড়ি ভাংচুর, টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। ভাংচুরের সময় চালকসহ ৫-৬ জন যাত্রী আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে।
গতকাল ভোর থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতারা বিভিন্ন স্পটে নেতাকর্মীরা পিকেটিং করেন। উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দোয়ারিকা ব্রিজ এলাকা, রহমতপুর-বাবুগঞ্জ সড়কের স্টিল ব্রিজ, বকুলতলায়, সাতমাইল ও মাধবপাশায় টায়ায় জ্বালিয়ে পিকেটিং ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে হরতাল সমর্থনকারীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা একটি মাহিন্দ্র, ১টি মাইক্রোবাসসহ ৪-৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। মীরগঞ্জ বাজারে হরতাল সমর্থনকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মাধবপাশা বাজারে টায়ার জ্বালিয়ে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় মিছিলকারীরা মাহিন্দ্রসহ ২-৩টি গাড়ি ভাংচুর করে এবং পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে হোসেন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের পিকআপ ভ্যান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাবার বুলেটে গুলিবিদ্ধ হোসেন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম, স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী নুরে আলম, যুবদল কর্মী মমিন, ওয়াসিম, বাবু, ইকবাল ও শাকিলকে ভবেরচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে হোসেন্দী এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটের গুলিতে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৮ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়।
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় রামগঞ্জে হরতালকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই মহিলাসহ আহত হয়েছে ৫ জন। আহত আমেনা ও তুহিনকে চিকিত্সার জন্য হাজীগঞ্জে নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতালের প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম শেখপুরা গ্রামে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা নোয়াবাড়ী এবং মুন্সিবাড়ী সংলগ্ন ওয়াপদা সড়কে গাছ কেটে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ হরতালকারীদের বাধা প্রদান করলে হরতাল সমর্থকরা শামিম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করে। খবর পেয়ে রামগঞ্জ শহর থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ১৫-২০টি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক থেকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশ ২ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়লে হরতাল সমর্থকরা পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পুলিশ এ সময় পার্শ্ববর্তী নোয়াবাড়ীতে ঢুকে ১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়লে ওই বাড়ির আমেনা বেগম (৪৫), শাহিনুর বেগম (২৮), ছাত্রদল কর্মী আরিফ হোসেন (১৮), তুহিন (১৭) ও মাসুদ মিয়াসহ আহত হয় ৫ জন।
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)
হরতালের প্রথম দিন লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা, বুড়িমারী, আলাউদ্দিন নগরে হরতাল পালিত হয়েছে। গতকাল হরতালের সমর্থনে সকালে বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কে আদর্শ কলেজের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। হরতালে পাটগ্রাম উপজেলায় সাপ্তাহিক হাটবার পাটগ্রাম ও বুড়িমারী বাজারে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং লোকজনের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। হরতালের কারণে সারাদেশের সঙ্গে লালমনিরহাট জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ভারত থেকে কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে কোনো পণ্যবাহী যান ছেড়ে যায়নি। হরতালে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় বুড়িমারী ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে আসা কয়েকশ’ পাসপোর্টধারী যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার (এসি) সোহেল রানা কাস্টমস ও স্থলবন্দর অফিস খোলা থাকলেও আমদানি-রফতানি অবস্থা হালকা জানিয়ে বলেন, ভারত থেকে পণ্য বোঝাই গাড়ি প্রবেশে করেছে; তবে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে কোনো মালবাহী গাড়ি ছেড়ে যায়নি।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় হরতাল সমর্থনকারী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন। সংঘর্ষের কারণে বেলা ১২টা হতে দেড়টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, হাবিবুর রহমান হাবু, যুবদল নেতা জুয়েল আহমেদ, পৌর যুবদল আহ্বায়ক কবির হোসেন, লাভলু ও খোরশেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
সকাল সোয়া ১১টায় আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় হরতালবিরোধী কয়েকটি মিছিলও পুলিশের সঙ্গে যায়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন একত্রে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা চালালে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। এতে যুবদল নেতা আনোয়ার, নুরুল ইসলামসহ ২৫ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মংলা (বাগেরহাট)
মংলায় একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা। মংলা বাসস্ট্যান্ডের নৈশপ্রহরী জয়নাল জানান, রোববার রাত ৩টার দিকে হরতাল সমর্থকরা মংলা বাসস্ট্যান্ডে থাকা যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। এমন ঘটনা মংলা বন্দরে প্রথম মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাতে আগুন লাগার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সবাই মিলে আধ ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর সকাল থেকে মংলা-খুলনা মহাসড়কে টমটম ছাড়া কিছুই চলছে না।
মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রথম দিনে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় বিএনপির মিছিলে পুলিশ ও আ.লীগের হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। এদিন ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মুরাদনগর থানা পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার তরেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কামাল্লা ও দীঘিরপাড়ে ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
গতকাল হরতালের শুরুতে উপজেলার বাঙ্গরা, চাপিতলা, আন্দিকোট, নহল চৌমুহনী ও বাঙ্গরা ইউনিয়নের দীঘিরপাড়ে বিএনপির মিছিলে আ.লীগের হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ দীঘিরপাড় হতে অলিউল্লা, আল আমিন ও মঙ্গল মিয়াকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বাঙ্গরা ইউনিয়ন বিএনপি হরতাল সমর্থনে বাঙ্গরা বাজারে মিছিল বের করলে পুলিশ-আ.লীগ নেতাকর্মীরা মিছিলটিতে হামলা করলে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন মোল্লা, উপজেলা যুবদল প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, উপজেলা উত্তর ছাত্রশিবির সভাপতি আ. জব্বার, পূর্বধৈইর পূর্ব ইউপি যুবদল নেতা ডা. মজনু, বাবুল, সালাউদ্দিনসহ ৬ জন আহত হয়।
নেত্রকোনা
হরতালের প্রথম দিনে নেত্রকোনায় দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলা-ভাংচুরের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। হরতাল সমর্থকরা জেলা শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও মোড়গুলোতে পিকেটিং ও টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে জেলা শহরের সুজাকে নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার পর পরই আদালতের সামনের সড়কে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় ২০-২৫টি ককটেল বিস্ফোরিত হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ উদ্দিন ফরাসসহ ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। হরতালবিরোধীরা হাসপাতাল রোডে বিএনপি নেতা ডা. আনোয়ারুল হকের চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান নাবিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গতকাল রাতে হামলা চলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার যন্ত্রপাতি বিনষ্ট এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। হরতালবিরোধীরা বারহাট্টা রোডে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান খানের চেম্বার ও বাসভবন ভাংচুর করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও কুরপাড় এলাকা, স্টেশন রোড এলাকায় বিএনপি সমর্থিত বেশ কয়েকটি দোকান এবং হরতাল সমর্থকরা বড় বাজার, বারহাট্টা রোড এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থক বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। এছাড়া জেলা শহরের সাতপাই এলাকায় পিটিআইয়ের সামনে গতকাল সন্ধ্যায় হরতাল সমর্থকদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়র রহমান খান আহত হয়েছেন। তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জেলা শহরের ছোট বাজারে বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। শহরে উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
শিবগঞ্জ (বগুড়া)
হরতাল চলাকালে গতকাল সন্ধ্যায় বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান বন্দরে যুবদল বিশাল লাঠি মিছিল শেষে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
বন্দর যুবদলের সভাপতি আজিজুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুনের পরিচালনায় লাঠি মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরু বলেন, অবিলম্বে এ ফ্যাসিবাদ সরকার যদি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে, তাহলে এদেশ থেকে তাদের পালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। এদেশের সাধারণ জনগণ টেনে-হিঁচড়ে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা রানা ফকির গবরা, হারুন অর রশিদ টুনু, আইয়ুব খান, সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, তুহিন, যুবদল নেতা আজিজার রহমান, গোলাম রব্বানী পুটু, এবিএম মিলন, দুলাল মাস্টার, আইফুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, আসলাম হোসেন, সাবলু, সুজন, রবি, লিটন, বায়েজিদ, মহিউদ্দীন দুলু, শহিদুল ইসলাম শান্ত, তুষার আহম্মেদ, উজ্জ্বল, মামুন, শফিকুল, খোকন প্রধান, রানা, আল বিরুনী শিপলু, আইনুর, আশরাফ, রোমান, শাহজালাল, মাছুদ, ডাবলু, ফরিদ, মাসুদ, মোমিন, মিলু, রুবেল, নয়ন, রানা, সুলতান, ছাত্রদল নেতা ইউসুফ আলী, ইমরান সরদার, কাউছার আলী, ফারুক, আতিকুর, সৌরভ, এবাদুল, মেহেদুল, মেহেদী, বিপ্লব প্রমুখ।
নেতারা আজ ও আগামীকালের হরতাল সফল করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
হরতালে বগুড়া অচল হয়ে পড়েছে। হরতালকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটলেও বগুড়া শহর ছিল জামায়াত-শিবির ও বিএনপির দখলে। রাজপথে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের সাহসী উপস্থিতির কারণে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামার সাহস পায়নি। সারাদিন তালাবদ্ধ ছিল আওয়ামী লীগ অফিস। হরতালের শুরু থেকে শহরের প্রধান সড়ক ছাড়াও পাড়া-মহল্লায় নির্বিঘ্নে পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থকরা। যানবাহন চলা তো দূরের কথা, একটি বাইসাইকেলও চলতে দেয়নি পিকেটাররা। হরতাল চলাকালে শহরজুড়ে ব্যাপক পুলিশ থাকলেও তাদের ভূমিকায় ছিল শিথিলতা। এ কারণে হরতাল সমর্থকরা যে যেখানে সুযোগ পেয়েছে, সেখানেই পিকেটিং করেছে।
বগুড়ার কাহালু রেলস্টেশনে হরতাল সমর্থকরা পদ্মরাগ ট্রেনের হোসপাইপ খুলে নেয়ায় ট্রেনটি সেখানে আটকা পড়ে থাকায় সান্তাহার-বোনারপাড়া রুটে গতকাল সারাদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল করেছে হরতাল সমর্থকরা। আর ছাত্রশিবির পুলিশের সামনেই হরতালের পক্ষে বিশাল মিছিল করেছে। গতকাল হরতালের সমর্থনে বগুড়া শহরে ব্যাপক পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
সকাল থেকে শুধু সাধারণ মানুষদের পায়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেছে। দিনভর ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা পিকেটিং করেছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। শহরের সাতমাথায় ১৮ দলীয় ঐক্যজোট নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার আশঙ্কায় বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয় এবং আ.লীগের অফিস ও তার আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখে। আওয়ামী লীগ অফিস রক্ষায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।
হরতাল চলাকালে আদালত, শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা, নবাববাড়ী, ইয়াকুবিয়ার মোড়, ঠনঠনিয়া, স্টেশন রোড, সেউজগাড়ী, খান্দার, পুরান বগুড়া, আযিযুল হক কলেজের সামনে ও জেলা পরিষদের সামনেসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টায় ১৮ দলীয় ঐক্যজোট নেতাকর্মীরা দখল করে জিরো পয়েন্ট সাতমাথা। এর আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশত গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও শনিবার রাতে বগুড়া সদরের বাঘোপড়া ও শাজাহানপুরের ফকটি ব্রিজের কাছে ১৫-১৬টি কোচ, ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করা হয়। এ সময় ৫ জন আহত হয়। অপরদিকে রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
মুন্সীগঞ্জ
নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির ডাকা হরতালের প্রথম দিনে গতকাল মুন্সীগঞ্জে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে গজারিয়া এবং সিরাজদিখানের নিমতলায় পুলিশ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আলী আসগর রিপন মল্লিক, টঙ্গিবাড়ি যুবদল সভাপতি শামিম মোল্লা, কৃষক দল সভাপতি আ. সাত্তার, পুলিশের এসআই আতিকুর রহমান, কেয়াইন আ.লীগ নেতা আশ্রাফ আলী, যুবলীগ নেতা তৈয়ব আলীসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নিমতলায় মিছিল বের করে। এ সময় যুবলীগ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপি নেতা মোসলেম উদ্দিন, ইকবালকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে সকালে ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং মুন্সীগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোত টায়ার জ্বালিয়ে, রিকশা-অটোরিকশা ভাংচুর করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হরতাল সমর্থকরা।
পিরোজপুর
১৮ দলের ডাকা প্রথম দিনের হরতাল পিরোজপুরে সর্বাত্মক পালিত হয়েছে। পুলিশের গুলি ও আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ২৩ জন। জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্তত ৩৫ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এদিকে জেলার জিয়ানগরের বালিপাড়ায় গতকাল ভোর রাতে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলায় স্বপন শীল নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার চরবলেশ্বর গ্রামে ছাত্রলীগ ক্যাডার বাপ্পি মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।
পিরোজপুর শহরে বিএনপি পিকেটিংকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে বিএনপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপে শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে।
সকাল ৯টায় পিরোজপুর সদরের ভৈরমপুর এলাকায় হরতালকারীরা পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কে বেইলি ব্রিজের প্লেট খুলে, টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পিকেটারদের ধাওয়া করে। পিকেটাররা পিছু না হটলে পুলিশ সেখানে ৬ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ২ পিকেটার আহত হয়। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকলে ওই এলাকায় র্যাব ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তাতেও হরতালকারীরা না সরলে আরও ৭ রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। তাতেও হরতালকারীরা পিছু হটেনি বলে জানা গেছে। এদিকে জেলার নাজিরপুরে ১৮ দল পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল বের করলে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি ও ৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। এ ঘটনায় যুগান্তর প্রতিনিধি লাহেল মাহমুদ আহত হয়েছেন।
রংপুর
রংপুরে শিবিরের হামলায় জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি গাজীউর রহমানকে গাজী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শনিবার মধ্যরাতে নগরীর বিনোদপুর ২নং রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে গাজী জানান। তিনি বলেন, আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
তবে হামলার ঘটনা অস্বীকার করে শিবির মহানগর সভাপতি মোস্তাক আহমদ জানান, এ ঘটনা তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে হতে পারে।
গাজী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ব্যক্তিগত কাজ সেরে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। বিনোদপুর রেলগেট এলাকায় কয়েকজন শিবির ক্যাডার তার পথ আগলে ধরে তাকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে শিবির সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার পিঠ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নীলফামারী
১৮ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন নীলফামারীতে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশ যুবলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সংঘর্ষে পুলিশ এক চা দোকানদার ও তার দোকানের অপর ৩ গ্রাহককেসহ ৪ জনকে আটক করেছে। জেলার ডোমার উপজেলার ধরনীগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানায়, গতকাল হরতালের প্রথমদিন জেলার অন্যান্য এলাকার মতো ধরনীগঞ্জ বাজারে পিকেটিং করে হরতাল সমর্থনকারীরা। নিরীহ জনতার ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে ডোমার যুবলীগের নেতারা সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর একদল যুবলীগ কর্মী পুলিশের সঙ্গে সেই সংঘর্ষে অংশ নেয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসী একত্রে জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ জানাতে থাকে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় জেলা শহর হতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে উভয়পক্ষে নতুন করে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে যুবলীগের নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আসে। এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
চাঁদপুর
১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের প্রথমদিন সকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় দলের কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১৫-১৬ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। পরে দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ থেকে হরতাল চলাকালীন পুরো সময় ধরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল সকালে হরতালের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ হাজীগঞ্জ বাজারে শান্তিপূর্ণ হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। এ সময় হাজীগঞ্জ বাজারে হরতালের পক্ষে পিকেটিং করে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন। এতে পিকেটিং ও মিছিল একইস্থানে পৌঁছলে উভয় দলের অতি উত্সায়ী কর্মীরা ধর ধর বলে চিত্কার দিলে উভয়পক্ষ এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। এর পর থেকে উভয়দল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বাজারের মধ্যবর্তী অংশে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় হাজার হাজার ইট, পাথর নিক্ষেপ চলতে থাকে। এ সময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী আহত হয়।
মাদারীপুর
হরতালের প্রথমদিনে মাদারীপুরে বিভিন্ন সড়কের ১৪-১৫টি ইজিবাইক ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটকৃতরা হলেন- মাদারীপুর পৌর এলাকার যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন, কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, বালিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রায়হান হাওলাদার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি সুজন, জেলা জামায়াতের সদস্য দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, নাসির উদ্দিন কাজীসহ মোট ১৫ জন। সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ১৪-১৫টি ইজিবাইক ভাংচুর করে। পরে সদর থানা পুলিশ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কর্ণপাড়া থেকে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করার সময় কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, বালিগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রায়হান হাওলাদার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি সুজন, জেলা জামায়াতের সদস্য দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, নাসির উদ্দিন ও মাদারীপুর পৌর এলাকার থানতলী থেকে যুবদল নেতা আলমগীর হোসেনসহ সন্দেহভাজন ১৫ জনকে আটক করে।
লালমনিরহাট
বিরোধী দলের ডাকা হরতালে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার শতাধিক পয়েন্টে হরতাল সমর্থকরা ভোর ৬টা থেকে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে রাখে। জেলা শহর ও উপজেলাগুলোতে পৃথকভাবে পিকেটিং চলতে দেখা গেছে। সকাল ১০টায় পিকেটাররা লালমনিরহাট জেলা আ.লীগ কার্যালয় ও জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে হামলা ব্যাপক ভাংচুর করে। দুপুর ১২টায় পিকেটাররা জেলা রেলওয়ে শ্রমিকলীগ অফিসে আগুন দিলে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময়ে হরতাল সমর্থকরা এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে বেশকিছু দোকানপাট ও ৪টি ব্যাংকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষতি সাধন করে। অপরদিকে ভোর ৬টায় লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর রেলওয়ে স্টেশনে হরতাল সমর্থকরা রেললাইন ও স্লিপার ওপর ফেলে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। সে কারণে সকাল থেকে লালমনিরহাটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরে স্থানীয় বিডিআর গেট সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১০ আহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। দুপুর ২টায় হরতাল সমর্থকরা জেলা শহরে লাঠি মিছিল করে। জেলা শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি সম্মলিতভাবে টহল অব্যাহত রেখেছে।
পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার নীলগঞ্জ ফেরিঘাটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দু’দলের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে উভয় দলের সমর্থক সংগঠনের কার্যালয়।
আহতরা হলেন- ছাত্রদলের জিয়ারুল ইসলাম, মারজান, জামাল গাজী, মিজান, মিরাজ, মানিক এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শামীম খলিফা, সহ-সভাপতি তোফাজ্জেল নাজির, শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার মল্লিক, ফারুক আকন, মামুন হাওলাদার, সুজন খলিফা, সোহেল খলিফা ও আল আমিন। এর মধ্যে গুরুতর আহত নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শামীম খলিফা ও সহ-সভাপতি তোফাজ্জেল নাজির, ছাত্রদলের কর্মী জিয়ারুল ইসলাম, মারজান, জামাল গাজীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়েছে। ১৮ দল আহূত হরতাল চলাকালে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিকেটিংয়ে বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। হরতাল সমর্থকরা নীলগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে হাজীপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ১৮ দল আহূত হরতালের সমর্থনে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের নীলগঞ্জ ফেরিঘাটে শান্তিপূর্ণভাবে পিকেটিং করছিলাম। এ সময় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শামীম খলিফার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এদের প্রতিহত করতে গেলে দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা তারেক জিয়া যুবসংঘের কার্যালয়, মাকসুদ মজুমদারের কেবল ব্যবসার প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাট
গতকাল বাগেরহাটে বাসে আগুন, ভাংচুর ও সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে প্রথম দিনের হরতাল। পিকেটাররা সকাল থেকে বাগেরহাটের দশানী, শ্রীঘাট, ফকিরহাটের খানজাহানপুর, নোয়াপাড়া, কাটাখালী, মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটী, বাধাল, রামপালের ফয়লাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে গাছ, বৈদ্যুতিক খাম্বা ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে।
এদিকে গতকাল ভোরে দিগরাজে রাস্তার পার্শ্বে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় পিকেটাররা। এছাড়া মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটী এলাকায় পিকেটাররা পিকআপসহ তিনটি গাড়ি ভাংচুর করে। সকালে ১৮ দলীয় জোটের নেতারা বাগেরহাট শহরের কালেক্টরেট এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তৃতা করেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বাবু, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল ওয়াদুদ, ছাত্রদলের সভাপতি সুজা উদ্দিন মোল্লা সুজন, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি শামীম আহসান প্রমুখ।
এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে পিকেটারদের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ তার দুই ছেলে আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল ভোরে এনায়েতপুর থানার রূপসী বাজারে থানা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুল খালেক ভুঁইয়ার দোকানের সামনের রাস্তায় বিএনপির পিকেটাররা গাছের গুঁড়ি ফেলে। তখন তার ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী রুবেল (১৮) ও রাসেল (১৫) গাছের গুঁড়ি সরিয়ে দিতে গেলে পিকেটাররা তাদের লাঠি দিয়ে মারধর করে।
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী)
হরতাল চলাকালে নোয়াখালীতে তাণ্ডব চালিয়েছে আ.লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল সন্ধ্যায় হরতালবিরোধী স্লোগান দিয়ে তারা জেলা শহর মাইজদীতে পত্রিকা অফিস, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় নোয়াখালী সদর থানার ওসি মোশারফ হোসেন তরফদারের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ শহরে অবস্থান করলেও তারা রহস্যজনক কারণে নীরব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হরতাল সমর্থক ও হরতাল বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, হরতাল চলাকালে সন্ধ্যায় হরতালবিরোধী স্লোগান দিয়ে আ.লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জেলা শহর মাইজদীতে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালায়। তারা দৈনিক সফল বার্তা পত্রিকা অফিস, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাকারিয়ার চেম্বার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নোমানের ভাই অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, বিএনপি নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিশাল সেন্টার, বাসাবাড়িসহ অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট করে।
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
বিএনপির ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালে মির্জাগঞ্জের কাঁঠালতলিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে ৯ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলা মাধবখালী ইউনিয়নের কাঁঠালতলিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বাড়ির সামনে থেকে ইউনিয়ন বিএনপির মিছিল বের করে এবং বাকেরগঞ্জ সুবিদখালী বরগুনা মহাসড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে হরতাল পালন করে। এ সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ পাল্টা মিছিল বের করে হরতাল সমর্থনকারীদের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রথম দিনের হরতাল বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে সর্বাত্মকভাবে পালিত হয়েছে। হরতালের প্রথম প্রহরে থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান মণ্ডলের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি বিশাল মিছিল পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দিনব্যাপী হরতাল সমর্থনের মিছিলে মুখরিত ছিল পৌর শহরের রাজপথ। অপরদিকে উপজেলার মহিমাগঞ্জে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পিকেটিং করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এনটিভির জেলা প্রতিনিধিসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়।
পার্বতীপুর (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সর্বাত্মক হরতাল চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিকালে ছাত্রদল, যুবদল ও শিবির কর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে আমবাড়ী এবং মধ্যপাড়া নামক জনপদে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ওবায়দুল (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে বিকাল সোয়া ৪টায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় উভয় পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছে। হরতাল সমর্থকদের হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি রতন কুমার শীল (৪৫), যুবলীগ সভাপতি ধীপন ধর (২৮) ও যুবলীগ সেক্রেটারি রেজাউল করিম, ছাত্রলীগ সেক্রেটারি জিয়াসহ সাত-আটজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ২ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় হরতাল সমর্থকরা হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করেছে। পাল্টা হামলায় বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের ৫ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিএনপি অফিসও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর)
হরতালের প্রথম দিন আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় ১২ বিএনপি কর্মী আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা বিএনপি সমর্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সরিষাবাড়ী উপজেলার সর্বত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে। গতকাল হরতালে সরিষাবাড়ীর জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে বিভক্ত হয়ে রাস্তায় রাস্তায় পিকেটিং করে এবং দলীয় স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। স্বতঃস্ফূর্ত হরতালে বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৮টায় আওনা ইউনিয়নের কালিকাপুর মৌলভীবাজার এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭ বিএনপি কর্মী আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত টেঁটাবিদ্ধ মুকুল (৪৫) ও হাইত আলীকে (২৭) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপি সমর্থিত ৫টি দোকান ভাঙচুর করে। প্রতিবাদে এলাকাবাসী আওয়ামী লীগ সমর্থিত অ্যাডভোকেট মতিয়র তালুকদার স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর করে। অপরদিকে পৌর এলাকার বাউসি পপুলার চত্বরে সকাল ৮টায় বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে বলে বিএনপি নেতা রমজান আলী অভিযোগ করেন।
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও গোপালপুরে হরতাল সমর্থক ও হরতালবিরোধীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এবং সংঘর্ষের ঘটনায় গোপালপুর থানার ওসি ও কনস্টেবলসহ ১৪ জন আহত হয়।
সকাল ১১টায় হরতাল সমর্থক বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করতে থাকে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গোপালপুর থানার ওসি জসিম উদ্দিন ও কনস্টেবল হাফিজ হরতাল সমর্থকদের ইটের আঘাতে আহত হন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। আহত কনস্টেবলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওসি প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।
অপরদিকে, দুপুর ১২টায় নাগরপুরে বিএনপি ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ভাংচুর করে। এ ঘটনায় বিএনপি-ছাত্রলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়।
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
হরতালের প্রথম দিনে শ্যামনগরের কাশিমাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, মিছিল সমাবেশ ও পিকেটিং করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র মতে, গতকাল সকাল থেকে কাশিমাড়ী ইউনিয়ন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে শ্যামনগর কাশিমাড়ী সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মু. অলিউল্যাহর নেতৃত্বে একটি মিছিল কাশিমাড়ী বাজারে সড়ক অবরোধ করে, সহ-সভাপতি জামিরুল আলম বাবলুর নেতৃত্বে কাশিমাড়ী নতুনবাজার থেকে ইউনিয়ন জামায়াতের ৬নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি শহিদুল ইসলামের নেতৃতে ঘোলা ত্রিমোহনা মোড় হতে মিছিল পিকেটিং করতে করতে দলীয় কার্যালয়ে আসে।
বাঘা (রাজশাহী)
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম বাজারে আ.লীগ বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ২০ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাত রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় আবারও সংঘর্ষ বাধতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান।
স্থানীয়রা জানায়, হরতাল চলাকালীন সময়ে উপজেলার মনিগ্রাম বাজারে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১৮ দল (বিএনপি) সমর্থকরা পিকেটিং করছিল। ওই সময় ১৪ দল (আ.লীগ) সমর্থিতরা তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই সংঘর্ষে উভয়ের মধ্যে ২০ আহত হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথমদিনের হরতাল চলাকালে ককটেল, বিস্ফোরণ মোটরসাইকেল ভাংচুর হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ আহত হয়েছে ৬ জন।
গতকাল হরতালের শুরুতে সকালে চাচিয়া মিরগঞ্জ মাঝিপাড়া মোড়ে একটি মোটরসাইকেল ও নিজামখাঁ কালিরপাটে একটি ভটভটি পিকেটাররা ভাংচুর করে। ডোমেরহাটে হরতালকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও পুলিশের সঙ্গে হরতাল পালনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শামিউল, আনোয়ারুল, নাজমুল, রবিউলসহ ৬ জন আহত হয়।
জিয়ানগর (পিরোজপুর)
১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের প্রথমদিনে পিরোজপুরের জিয়ানগরে ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। বিএনপি জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার বালিপাড়ায় ব্যপক তাণ্ডব চালিয়ে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় হরতালের সমর্থনে উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় দফায় দফায় ৩টি ইজিবাইক ভাংচুর করে ছাত্রদল কর্মীরা। গতকাল ভোররাতে উত্তর পূর্ব বালিপাড়া ও ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের জামায়াত-বিএনপির সমর্থকরা যৌথভাবে মিছিল নিয়ে বালিপাড়া বাজারে প্রবেশ করে। একে একে বালিপাড়া ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড থেকেই হরতাল সমর্থকরা বাঁশের লাঠি, রড, রাম দা, চেইন স্টিক, হকস্টিক, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজারে জড়ো হয়। তারা রাতেই উপজেলার মধ্য ইন্দুরকানী গ্রামের আফজাল খানের বাড়ির সামনে সড়ক ও জনপথের চণ্ডিপুর-জিয়ানগর সড়কটি কেটে গভীর খাদের সৃষ্টি করে। এছাড়া এই সড়কটিসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ কেটে অবরোধ করে রাখে। দুপুরের দিকে পুলিশ কিছু স্থানের গাছ সরিয়ে রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করে। উপজেলার সর্বত্র সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও সকালেই ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া রাস্তায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
হরতালের প্রথম দিনে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। জানা গেছে হরতালের প্রথমদিন গতকাল দুপুরে কানসাট ব্রিজের কাছে পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর খোঁচপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে হাসান ও আবদুর রশিদের (ওবাইদুল্লাহ মুন্সী) ছেলে হারুনকে পিকেটাররা কুপিয়েছে। জানা গেছে আহত দুজনেই ছাত্রলীগের কর্মী। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল ভারত থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভূপতি মণ্ডল জানান, সোনামসজিদ পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ পণ্যভর্তি ট্রাক গ্রহণ করতে না চাওয়ায় তারা কোনো পণ্যবাহী ট্রাক সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাঠায়নি।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌর যুবদল, তারাব পৌর বিএনপি-যুবদল গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ-পুলিশের সংঘর্ষে ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জন জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও আওয়ামী লীগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে বিএনপি ও যুবদলের ১৫ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়।
এছাড়া রূপগঞ্জে ৫ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় আটক হয়েছে ২ জন। রূপগঞ্জে পৌর যুবদল-আ’লীগের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে ১২ জন।
অপর দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার খাদুন এলাকায় ছাত্রলীগের দুই কর্মী আটকের গুজবে গতকাল রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়েছে। এ সময় ৬ থেকে ৭টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করা হয়। পরে উত্তেজিত এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা কবির মোল্লাকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ছাত্রলীগে নেতা মতিন সাউদ ও কবির মোল্লাকে খাদুনের যুবদল নেতা বকুল ও শরিফ মিয়া ধরে নিয়ে গেছে বলে গুজব ছড়ায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খাদুন এলাকার যুবদল নেতা বকুল মিয়া ও শরিফ মিয়ার বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। এ সময় ৬-৭টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে তারা। তখন এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীদের মধ্য থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা কবির মোল্লাকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রমের সীতাকুণ্ডে হরতালের প্রথম দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো যান চলাচল করেনি। পিকেটারদের সঙ্গে যুবলীগের সংঘর্ষে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এতে ৩ জামায়াত কর্মীসহ আহত হয়েছে ১০ জন। মহাসড়কের একটি কভার্ডভ্যান ও একটি চেয়ার কোচে আগুন দেয়াসহ পৃথক স্থানে ৬টি দোকান ভাংচুর করেছে পিকেটাররা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হরতালের প্রথম দিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি কভার্ডভ্যানে আগুন দেয় পিকেটাররা। সকাল ১০টার দিকে ওই এলাকায় ২টি দোকান ভাংচুর করে তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফৌজদারহাট জলিল গেট এলাকায় ২টি ও ফৌজদারহাট বাজারে ৪টি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মীর দোকান ভাংচুর করে পিকেটাররা।
দুপুরে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কেদারখিল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় যুবলীগ কর্মী মুসলিম উদ্দিন। এ ঘটনায় উভয় দলে ১০ জন আহত হয়েছে।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)
গফরগাঁওয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৩ দিনের লাগাতার হরতালে প্রথম দিনে গতকাল রোববার দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন- আওয়ামী লীগ এবং পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষের মধ্যে সর্বাত্মকভাবে আংশিক হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালের শুরুতে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও তৃণমূল দলের নেতাকর্মীরা উপজেলার সদরে বাসস্ট্যান্ড, মতি মার্কেট, তেজপাতা মার্কেট, টাওয়ারের মোড়, জালেশ্বর, দুগাছিয়া মোড়, মহিরখারুয়া, পালেরবাজার, রাজেন সরকারের মোড়, পাঁচবাগ মোড়, ধাইরগাঁও বাজার, মুখী বাজার, টাঙ্গাব, কান্দিপাড়া, নিগুয়ারী, দত্তেরবাজার, রসুলপুরসহ বিভিন্ন স্পটে গছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশ এলে তারা সরে যান এবং অনেক স্থানে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। হরতালকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আলী হোসেন ও নয়ন নামে দু’জনকে আটকে পর মারধর করে। পরে হরতালকারীদের প্রতিরোধের মুখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পাঁচবাগ-হোসেনপুর ব্রিজের মোড় চৌকা বাজার এলাকায় সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসহ তৃণমূল দলের শত শত নেতাকর্মী গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পাগলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হরতালকারীদের বাধা প্রদানসহ ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে হরতালকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল দল, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াকালে আওয়ামী লীগ কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় এবং উভয়ই দলের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গফরগাঁও ও পাগলা থানা থেকে আরও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কমপক্ষে ২৫-৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণসহ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে আরও ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হলে গোটা পাঁচবাগ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় বাজার এলাকায় সরকারদলীয় ব্যানার ও বিলবোর্ড কুপিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং দোকানপাটে ভাংচুর চালায়। সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিবর্ষণে, লাঠিচার্জে, ইট নিক্ষেপে ও দায়ের আঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আসলাম, নবী হোসেন, যুবদল নেতা মানিক মেম্বার, তৃণমূল দল নেতা রাসেল খান, মুক্তা, শ্রমিক দল নেতা জসিম, ছাত্রদল নেতা খোকন, হাসান, রিপেলসহ ৩০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দুপুরে পৌর শহরে জমির হোটেল ভাংচুর করা হয়। হরতালে গফরগাঁও থেকে দূরপাল্লার রুটের কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।
বাবুগঞ্জ (বরিশাল)
বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিনে বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গাড়ি ভাংচুর, টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। ভাংচুরের সময় চালকসহ ৫-৬ জন যাত্রী আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে।
গতকাল ভোর থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতারা বিভিন্ন স্পটে নেতাকর্মীরা পিকেটিং করেন। উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দোয়ারিকা ব্রিজ এলাকা, রহমতপুর-বাবুগঞ্জ সড়কের স্টিল ব্রিজ, বকুলতলায়, সাতমাইল ও মাধবপাশায় টায়ায় জ্বালিয়ে পিকেটিং ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে হরতাল সমর্থনকারীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা একটি মাহিন্দ্র, ১টি মাইক্রোবাসসহ ৪-৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। মীরগঞ্জ বাজারে হরতাল সমর্থনকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মাধবপাশা বাজারে টায়ার জ্বালিয়ে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় মিছিলকারীরা মাহিন্দ্রসহ ২-৩টি গাড়ি ভাংচুর করে এবং পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে হোসেন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের পিকআপ ভ্যান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাবার বুলেটে গুলিবিদ্ধ হোসেন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম, স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী নুরে আলম, যুবদল কর্মী মমিন, ওয়াসিম, বাবু, ইকবাল ও শাকিলকে ভবেরচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে হোসেন্দী এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটের গুলিতে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৮ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়।
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় রামগঞ্জে হরতালকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই মহিলাসহ আহত হয়েছে ৫ জন। আহত আমেনা ও তুহিনকে চিকিত্সার জন্য হাজীগঞ্জে নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতালের প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম শেখপুরা গ্রামে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা নোয়াবাড়ী এবং মুন্সিবাড়ী সংলগ্ন ওয়াপদা সড়কে গাছ কেটে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ হরতালকারীদের বাধা প্রদান করলে হরতাল সমর্থকরা শামিম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করে। খবর পেয়ে রামগঞ্জ শহর থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ১৫-২০টি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক থেকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশ ২ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়লে হরতাল সমর্থকরা পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পুলিশ এ সময় পার্শ্ববর্তী নোয়াবাড়ীতে ঢুকে ১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়লে ওই বাড়ির আমেনা বেগম (৪৫), শাহিনুর বেগম (২৮), ছাত্রদল কর্মী আরিফ হোসেন (১৮), তুহিন (১৭) ও মাসুদ মিয়াসহ আহত হয় ৫ জন।
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)
হরতালের প্রথম দিন লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা, বুড়িমারী, আলাউদ্দিন নগরে হরতাল পালিত হয়েছে। গতকাল হরতালের সমর্থনে সকালে বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কে আদর্শ কলেজের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। হরতালে পাটগ্রাম উপজেলায় সাপ্তাহিক হাটবার পাটগ্রাম ও বুড়িমারী বাজারে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং লোকজনের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। হরতালের কারণে সারাদেশের সঙ্গে লালমনিরহাট জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ভারত থেকে কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে কোনো পণ্যবাহী যান ছেড়ে যায়নি। হরতালে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় বুড়িমারী ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে আসা কয়েকশ’ পাসপোর্টধারী যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার (এসি) সোহেল রানা কাস্টমস ও স্থলবন্দর অফিস খোলা থাকলেও আমদানি-রফতানি অবস্থা হালকা জানিয়ে বলেন, ভারত থেকে পণ্য বোঝাই গাড়ি প্রবেশে করেছে; তবে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে কোনো মালবাহী গাড়ি ছেড়ে যায়নি।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় হরতাল সমর্থনকারী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন। সংঘর্ষের কারণে বেলা ১২টা হতে দেড়টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, হাবিবুর রহমান হাবু, যুবদল নেতা জুয়েল আহমেদ, পৌর যুবদল আহ্বায়ক কবির হোসেন, লাভলু ও খোরশেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
সকাল সোয়া ১১টায় আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় হরতালবিরোধী কয়েকটি মিছিলও পুলিশের সঙ্গে যায়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন একত্রে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা চালালে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। এতে যুবদল নেতা আনোয়ার, নুরুল ইসলামসহ ২৫ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মংলা (বাগেরহাট)
মংলায় একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা। মংলা বাসস্ট্যান্ডের নৈশপ্রহরী জয়নাল জানান, রোববার রাত ৩টার দিকে হরতাল সমর্থকরা মংলা বাসস্ট্যান্ডে থাকা যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। এমন ঘটনা মংলা বন্দরে প্রথম মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাতে আগুন লাগার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সবাই মিলে আধ ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর সকাল থেকে মংলা-খুলনা মহাসড়কে টমটম ছাড়া কিছুই চলছে না।
মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রথম দিনে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় বিএনপির মিছিলে পুলিশ ও আ.লীগের হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। এদিন ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মুরাদনগর থানা পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার তরেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কামাল্লা ও দীঘিরপাড়ে ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
গতকাল হরতালের শুরুতে উপজেলার বাঙ্গরা, চাপিতলা, আন্দিকোট, নহল চৌমুহনী ও বাঙ্গরা ইউনিয়নের দীঘিরপাড়ে বিএনপির মিছিলে আ.লীগের হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ দীঘিরপাড় হতে অলিউল্লা, আল আমিন ও মঙ্গল মিয়াকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বাঙ্গরা ইউনিয়ন বিএনপি হরতাল সমর্থনে বাঙ্গরা বাজারে মিছিল বের করলে পুলিশ-আ.লীগ নেতাকর্মীরা মিছিলটিতে হামলা করলে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন মোল্লা, উপজেলা যুবদল প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, উপজেলা উত্তর ছাত্রশিবির সভাপতি আ. জব্বার, পূর্বধৈইর পূর্ব ইউপি যুবদল নেতা ডা. মজনু, বাবুল, সালাউদ্দিনসহ ৬ জন আহত হয়।
নেত্রকোনা
হরতালের প্রথম দিনে নেত্রকোনায় দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলা-ভাংচুরের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। হরতাল সমর্থকরা জেলা শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও মোড়গুলোতে পিকেটিং ও টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে জেলা শহরের সুজাকে নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার পর পরই আদালতের সামনের সড়কে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় ২০-২৫টি ককটেল বিস্ফোরিত হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ উদ্দিন ফরাসসহ ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। হরতালবিরোধীরা হাসপাতাল রোডে বিএনপি নেতা ডা. আনোয়ারুল হকের চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান নাবিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গতকাল রাতে হামলা চলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার যন্ত্রপাতি বিনষ্ট এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। হরতালবিরোধীরা বারহাট্টা রোডে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান খানের চেম্বার ও বাসভবন ভাংচুর করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও কুরপাড় এলাকা, স্টেশন রোড এলাকায় বিএনপি সমর্থিত বেশ কয়েকটি দোকান এবং হরতাল সমর্থকরা বড় বাজার, বারহাট্টা রোড এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থক বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। এছাড়া জেলা শহরের সাতপাই এলাকায় পিটিআইয়ের সামনে গতকাল সন্ধ্যায় হরতাল সমর্থকদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়র রহমান খান আহত হয়েছেন। তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জেলা শহরের ছোট বাজারে বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। শহরে উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
শিবগঞ্জ (বগুড়া)
হরতাল চলাকালে গতকাল সন্ধ্যায় বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান বন্দরে যুবদল বিশাল লাঠি মিছিল শেষে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
বন্দর যুবদলের সভাপতি আজিজুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুনের পরিচালনায় লাঠি মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরু বলেন, অবিলম্বে এ ফ্যাসিবাদ সরকার যদি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে, তাহলে এদেশ থেকে তাদের পালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। এদেশের সাধারণ জনগণ টেনে-হিঁচড়ে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা রানা ফকির গবরা, হারুন অর রশিদ টুনু, আইয়ুব খান, সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, তুহিন, যুবদল নেতা আজিজার রহমান, গোলাম রব্বানী পুটু, এবিএম মিলন, দুলাল মাস্টার, আইফুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, আসলাম হোসেন, সাবলু, সুজন, রবি, লিটন, বায়েজিদ, মহিউদ্দীন দুলু, শহিদুল ইসলাম শান্ত, তুষার আহম্মেদ, উজ্জ্বল, মামুন, শফিকুল, খোকন প্রধান, রানা, আল বিরুনী শিপলু, আইনুর, আশরাফ, রোমান, শাহজালাল, মাছুদ, ডাবলু, ফরিদ, মাসুদ, মোমিন, মিলু, রুবেল, নয়ন, রানা, সুলতান, ছাত্রদল নেতা ইউসুফ আলী, ইমরান সরদার, কাউছার আলী, ফারুক, আতিকুর, সৌরভ, এবাদুল, মেহেদুল, মেহেদী, বিপ্লব প্রমুখ।
নেতারা আজ ও আগামীকালের হরতাল সফল করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
No comments:
Post a Comment