দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সরকারি অপচেষ্টার বিরুদ্ধে
গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল
সোমবার এক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকা-ের
সমালোচনা করে বলেন, সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী
নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। বিরোধী দল
সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার মোতাবেক কোন সভা-সমাবেশের ঘোষণা করলেই
সরকারি দলের লোকেরা পাল্টা সভা-সমাবেশের আহ্বান করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির
অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিরোধী দলের পূর্ব ঘোষিত ও
সরকারের কাছ থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত আগামী ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের জনসভা বানচাল করার
জন্য গত ২০ অক্টোবর লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ ২৪ ও ২৫ অক্টোবর জনসভার
ঘোষণা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের এ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা ও
প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, যারা সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছে
প্রশাসনের উচিত তাদেরকেই জনসভা করার জন্য সহযোগিতা করা। প্রশাসন যদি
নিরপেক্ষতা বজায় না রাখে তাহলে তা হবে দেশের জনগণের সাথে প্রশাসনের
বিশ্বাসঘাতকতা করা। দেশের জনগণ রাজপথেই স্বৈরাচারী সরকারকে উপযুক্ত জবাব
দিতে বাধ্য হবে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন , প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৫ অক্টোবর জুমার নামাজের
পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের মসজিদে অবস্থান নেয়ার
নির্দেশ দিয়ে মূলত: মুসল্লীদের জুমার নামাযে বিঘœ ঘটানোর ব্যবস্থা করেছেন। এ
সরকার কয়েক মাস পূর্বে দেশের তিনশত মসজিদের তালা দিয়ে মানুষকে মসজিদে
নামায আদায় করতে দেয়নি। এবার আগামী শুক্রবার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের
ক্যাডারদের মসজিদে অবস্থান নিয়ে পবিত্র মসজিদকে রক্তাক্ত করে অপবিত্র করার
যে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
জানাচ্ছি। আমি আশা করি দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ সরকারের এ অপকর্মের উপযুক্ত
জবাব দিবে।
রফিকুল ইসলাম খান বিবৃতিতে আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অন্ধ
হয়ে দেশ থেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নির্বাসনে পাঠিয়েছে। এখন একতরফা
নির্বাচন করার অপচেষ্টা চালিয়ে দেশকে রক্তাক্ত করার চক্রান্ত করছে। বর্তমান
সরকারের কাছে দেশের সংবিধান ও জনগণের মতামতের কোন মূল্য নেই। তারা ক্ষমতার
দাপটে ধরাকে সরাজ্ঞান করে গায়ে পড়ে বিরোধীদলগুলোর সাথে সংঘাত ও সংঘর্ষ
বাঁধিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। দেশের জনগণ সরকারের একতরফা নির্বাচন
করার খায়েস কখনো পূরণ করতে দিবে না। সরকার সংবিধান বহির্ভূত সর্বদলীয়
সরকারের প্রস্তাব দিয়ে এবং আলোচনার কথা বলে জনগণের আন্দোলন বানচাল করার
কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশের জনগণ সরকারের ঐ কূটকৌশল কখনো বাস্তবায়িত করতে দিবে
না। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়
করবে। জনগণ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত
রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে
পরিচালিত প্রহসনের নীলনকশার নির্বাচনে দেশের জনগণ অংশ নিবে না। বরং সেই
নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে।
বিবৃতিতে তিনি সরকারের সকল অপকর্ম, অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক ও
ফ্যাসিবাদী ভূমিকার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশের জনগণের প্রতি
আহ্বান জানিয়েছেন এবং একই সাথে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
সংবিধানে পুনর্বহাল করে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইব্যুনাল ভেংগে দিয়ে
জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও আলেমগণকে মুক্তি
দিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ।
No comments:
Post a Comment