গত রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মাত্র ১৪ ঘণ্টার
ব্যবধানেই নিজ দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয়
পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিক
সম্মেলন করে এরশাদ নিজেই আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বারা তিনি এবং তার দল কিভাবে
ব্ল্যাকমেইলিং হয়েছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একই সাথে আগের রাতে আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ জাতীয় পার্টির মহাজোটের সাথে জোটগতভাবে
নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বক্তব্যকে অসত্য,
ভিত্তিহীন ও দুর্ভাগ্যজনক বলেও উল্লেখ করেছেন জাতীয় পার্টির এই শীর্ষ নেতা।
গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, বিএনপি
নির্বাচনে অংশ না নিলে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। আর প্রধান বিরোধী
দল বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের সেই পাতানো নির্বাচনে
অংশও নেবে না জাতীয় পার্টি।
গতকাল আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক
প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার (জাতীয় পার্টির) বৈঠক নিয়ে
সাংবাদিকদের কাছে যে তথ্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও
দুর্ভাগ্যজনক। সৈয়দ আশরাফের এ বক্তব্যে আমি স্তম্ভিত। তার বক্তব্য আমাকে ও
জাতীয় পার্টিকে জাতির সামনে হেয় করেছে। বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিক
সম্মেলনে এরশাদ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের খবর গণমাধ্যমে
সঠিকভাবে না আসায় আমাকে আজ দেশবাসীকে সঠিক তথ্যটি জানাতেই সাংবাদিক
সম্মেলনের আয়োজন করতে হলো।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, আমরা মহাজোটে থাকবো এবং
নির্বাচনে অংশ নেবো এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা আশা করবো, তিনি তার
বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।
প্রসঙ্গত গত রোববার রাত ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে অংশ নেন এরশাদের
নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির ১৫ নেতা। হাসিনা-এরশাদ বৈঠক প্রসঙ্গে পরে ব্রিফিং
করেন দুই দলের মহাসচিব সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও রুহুল আমিন হাওলাদার। আশরাফ
দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গেই
থাকবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন,
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার শুরুতেই আমরা বলেছি মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব উত্থাপন এবং তার পরের দিনই
সবধরনের সভা-সমাবেশ এমনকি ঘরোয়া সভার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি একটি
পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত, যা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না। এছাড়া
আমরা বৈঠকে বলেছি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন
সে ভাষণে কিছু কিছু বক্তব্য অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে সর্বদলীয় সরকারের
প্রধান কে হবেন, জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি ঘরোয়া সমাবেশের ওপর
নিষেধাজ্ঞা দেইনি। আর সর্বদলীয় সরকার প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না এমন
প্রশ্ন করলে এরশাদ বলেন, আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। তবে
প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হলে প্রশাসন যেহেতু তার অধীনে থাকবে তাই
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে
এরশাদ বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন বহু বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এই
কমিশনের অধীনেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এরশাদ আরো বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ
নেবে। সব দল অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে না। আমরা আগেই
বলেছি, জাতীয় পার্টি আর কোনো জোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না। আমরা
এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবো। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, এখনো দ্ব্যর্থহীন
ভাষায় বলছি, কোনো পাতানো নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে না। শেষ বয়সে আমি
দালাল হয়ে মরতে চাই না।
সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক
প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার,
বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ,
জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, মোস্তফা জামাল
হায়দারসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
No comments:
Post a Comment